তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে নতুন টানাপোড়েন, ঢাকার অবস্থান নিয়ে বীণা সিক্রির কড়া মন্তব্য
নয়াদিল্লি:
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। তাঁর মতে, সফরের সময় ও প্রস্তুতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই এমন শর্ত সামনে আনা কূটনৈতিকভাবে উপযুক্ত নয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি ‘রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে অভিহিত করেছেন।
বীণা সিক্রি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের বর্তমান বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তবে এখনও তারেক রহমানের ভারত সফরের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের জন্য একটি অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন এবং বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেই অনুরোধ প্রচলিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফলে প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।
বীণা সিক্রির বক্তব্য, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিপক্ষীয় সফর এবং একটি পৃথক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে সরাসরি একসঙ্গে বেঁধে দেওয়া ঠিক নয়। তাঁর মতে, প্রত্যর্পণ একটি আইনি বিষয়, যার নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল বিষয়গুলি প্রকাশ্যে কঠোর ভাষায় না তুলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
কূটনৈতিক মহলের মতে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর হলে সেটি দুই দেশের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মতপার্থক্য সফরের আগে নতুন করে চাপ তৈরি করছে।
এখন নজর একটাই—তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত কবে নয়াদিল্লি যাবেন এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু কি সেই সফরের আলোচনায় আলাদা কূটনৈতিক বিষয় হিসেবেই থাকবে, নাকি দুটিকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করেই এগোবে ঢাকা।