নয়াদিল্লীঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার পরপরই বেইজিং সফরে গেলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর বহনকারী বিমান বেইজিংয়ে অবতরণ করে। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
চলতি বছরে এটি পুতিনের প্রথম বিদেশ সফর। সফরের শুরুতেই বুধবার সকালে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পরে দুই দেশের প্রতিনিধি দল নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে। সেখানে দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে প্রবেশ করেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে পুতিন শি জিনপিংকে আবারও ‘প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি আরও জানান, এই বৈঠকের জন্য তিনি দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন।
দুই দেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, কৌশলগত ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সফরের লক্ষ্য দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বাড়ানো।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকলেও চীন এখনো মস্কোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং রুশ তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এবারের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চীনা প্রকৌশল খাতে বড় প্রকল্প ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ পাইপলাইনের নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এটি চালু হলে রাশিয়া বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস চীনে সরবরাহ করতে পারবে। এতে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা, বিশেষ করে পারমাণবিক আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, পুতিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যৌথ নথি স্বাক্ষর, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নৈশভোজ এবং চায়ের আড্ডার মতো বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এই সফরের মধ্য দিয়ে চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার ত্রিমুখী সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।