ইসলামাবাদ
পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক দাবি করেছেন, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইরানি প্রতিনিধিদলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সামরিক সম্পদ মোতায়েন করা হয়েছিল।
ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিধিদলটি ইসলামাবাদ সফরে আসে। সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। আলোচনা শেষে গত ১২ এপ্রিল প্রতিনিধিদলটি ফিরে যায়।
একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর খালিদ চিশতি বলেন, তাঁর সূত্র অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদের বহনকারী বিমানকে সম্ভাব্য যেকোনও হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে পাকিস্তান ২৪টিরও বেশি যুদ্ধবিমান এবং সহায়ক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল।
পাকিস্তান বিমানবাহিনী কি দেশের আকাশসীমা ছাড়িয়ে ইরানের ভেতর পর্যন্ত ওই বিমানকে নিরাপত্তা দিয়েছিল কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে চিশতি জানান, এমন অভিযান সত্যিই ঘটেছিল। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত বিরল এবং তাঁর কর্মজীবনে এমন উদাহরণ তিনি দেখেননি। তিনি এটিকে সদিচ্ছার প্রতীক বলেও উল্লেখ করেন।
চিশতি অতীতের একটি ঘটনার কথাও তোলেন, যেখানে ভারত থেকে ফেরার পথে একটি ইরানি নৌজাহাজ হামলার শিকার হয়েছিল এবং তাতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। তাঁর মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল সেই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।
যদিও সামাজিক মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদলকে দেওয়া এই আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছিল, এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।