নয়াদিল্লি
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারও সংস্কৃতি ও জ্বালানি সহযোগিতার মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়ে উঠছে। রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুম বস্ত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে দুই দেশের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন।
‘শাড়ি উইভিং এক্সপোজিশন’-এ বাংলাদেশের সেরা হস্ততাঁতের পণ্য প্রদর্শিত হয়, যা দেশের সমৃদ্ধ কারুশিল্প ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এই উপলক্ষে হামিদুল্লাহ বলেন, এই বস্ত্র শুধু পোশাক নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অভিন্ন পরিচয়ের গল্প বহন করে। ব্রহ্মপুত্র নদের দুই তীরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই শিল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মিল অত্যন্ত গভীর।
তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে আধুনিক সময়ে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ধীরে ধীরে সংকটের মুখে পড়ছে। এ ধরনের আয়োজনের লক্ষ্য শুধু এই শিল্পকে সংরক্ষণ করা নয়, নতুন প্রজন্মকেও এর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। তাঁর মতে, হস্ততাঁত শিল্প কেবল অর্থনৈতিক কার্যকলাপ নয়, এটি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতাও দ্রুত এগোচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৫,০০০ টন ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। এই জ্বালানি নমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুরে পদ্মা অয়েল ডিপো পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এপ্রিল মাসে মোট ২৫,০০০ টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মার্চ মাস এবং এপ্রিলের প্রথম দিকেও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক সরবরাহের উদ্দেশ্য বাংলাদেশে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট এড়ানো।
পার্বতীপুর ডিপোর আধিকারিকরা জানান, সরবরাহ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারি ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রাখা হয়েছে। আগামী দিনে আরও ৭,০০০ টন ডিজেল পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা জ্বালানি মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের এই দ্বিমুখী সহযোগিতা, সংস্কৃতি ও জ্বালানি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন দিশা দিচ্ছে। একদিকে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করছে, অন্যদিকে জ্বালানি অংশীদারিত্ব অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে গতি আনছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করছে যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নয়; সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ ক্রমেই আরও কাছাকাছি আসছে। আগামী দিনে এই অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে বলেই আশা করা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।