মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে যেন নিজেই ফার্মেসিতে হাজির হলো এক আহত কালোমুখ হনুমান। বাংলাদেশের যশোর জেলার কেশবপুরে এই বিরল ঘটনায় আবেগাপ্লুত স্থানীয় বাসিন্দারা। কাঁধে ক্ষত নিয়ে ঘুরে বেড়ানো হনুমানটিকে শেষ পর্যন্ত ওষুধ লাগিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সোমবার দুপুরে কেশবপুর শহরের ত্রিমোহিনী মোড় এলাকায় খাদ্যের খোঁজে আসে বিরল প্রজাতির কালোমুখ হনুমানটি। প্রথমে স্থানীয়রা তাকে রুটি-সহ বিভিন্ন খাবার দিলেও সে খুব একটা খেতে চাইছিল না। সেই সময় সাংবাদিক এম এ রহমানের কাছে এসে হনুমানটি তাঁর কাঁধে উঠে বসে এবং হাত দিয়ে নিজের কাঁধের ক্ষতস্থান দেখাতে থাকে।
ঘটনাটি দেখে এম এ রহমান হনুমানটিকে পাশের আলফা মেডিকেল স্টোরে নিয়ে যান। সেখান থেকে জীবাণুনাশক ওষুধ কিনে তার ক্ষতস্থানে লাগিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসার পর কিছুটা স্বস্তি পেয়ে হনুমানটি সেখান থেকে চলে যায়।
এম এ রহমান জানান, তিনি হনুমানটিকে রুটি দিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। এরপরই প্রাণীটি যেন নিজের কষ্টের কথা বোঝাতে ক্ষতস্থান দেখাতে শুরু করে।
স্থানীয়দের দাবি, কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী কালোমুখ হনুমানদের জন্য সরকারি খাদ্য বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। ফলে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে এসে তারা প্রায়ই আহত হয়। তাদের সংরক্ষণে খাদ্য বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আহত প্রাণীটির পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় এম এ রহমানের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনাকে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহমর্মিতার এক অনন্য নজির বলেই মনে করছেন অনেকেই।