ঢাকা
বাংলাদেশে আজ শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যা দেশটির রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ও নির্ধারক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পর এবার প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া অবস্থায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভোটগ্রহণ চলছে সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিট (স্থানীয় সময়) পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা থেকে গণনা শুরু হবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ভোটের আগের দিন কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট ও নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
১২.৭ কোটি ভোটার, ৫১টি রাজনৈতিক দল
এই নির্বাচনে ১২ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছর, আর ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ভোটার এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন।
দেশটিতে মোট ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল থাকলেও আওয়ামী লীগ সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় এবার তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ৫১টি রাজনৈতিক দল ও মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে:
** বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP)
** জমাত-ই-ইসলামী
** ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)
** জাতীয় পার্টি (জেপি-কাদের)
** লেফট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স
** এবি পার্টি
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু: দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব
নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু-- দুর্নীতি, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, সামগ্রিক, অর্থনৈতিক সংকট। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবার ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ একটি সাংসদীয় গণরাজ্য, যেখানে নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে, আর রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রধান।
জাতীয় চার্টার ২০২৫–এ গণভোট
সাংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি আজ দেশের জনগণ অংশ নিচ্ছেন “ন্যাশনাল চার্টার ২০২৫”–এর গণভোটেও।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে তৈরি এই নথি ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণ করবে।
কঠোর নিরাপত্তা, অনিয়মে কড়া ব্যবস্থা
গৃহ উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সতর্ক করেছেন, যদি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই, ভুয়া ভোট, অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে,, তবে দোষী যেই হোক, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা নির্বাচন কর্মকর্তা, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের এ নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদল নয়; বরং দেশের নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতেরও পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।