প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে স্মারক তুলে দেন বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
দেবকিশোর চক্রবর্তী
ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের উন্নয়ন, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বাংলার মানুষের কাছে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতেই বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ব্রিগেড ময়দানের রাজনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছতে বাধার মুখে পড়ছে। তাঁর কথায়, কেন্দ্র সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাইলেও রাজ্যের প্রশাসনিক বাধার কারণে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
মোদী বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে দ্রুত উন্নয়ন ঘটছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না। তাঁর মতে, সুশাসন এবং স্বচ্ছ প্রশাসন থাকলে বাংলার সম্ভাবনা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মানুষ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং স্বচ্ছ প্রশাসন চাইছেন।
বক্তব্যে তিনি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রে এবং রাজ্যে একই রাজনৈতিক শক্তির সরকার থাকলে উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার সুফল সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছায়। তিনি বলেন, শক্তিশালী এবং জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলে পশ্চিমবঙ্গ দেশের উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
রাজ্যে দুর্নীতির প্রসঙ্গেও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। নিয়োগ দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই বিজেপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ব্রিগেডের সভায় উপস্থিত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-ও তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, রাজ্যে দুর্নীতি, কাটমানি এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বে মানুষ ক্ষুব্ধ। শুভেন্দুর দাবি, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং আগামী নির্বাচনেই তার প্রতিফলন দেখা যাবে।
এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে সরাসরি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের একটাই লক্ষ্য—২০২৬ সালের নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন।” তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে—এটাই এখন কালের দেওয়াল লিখন।
ব্রিগেডের এই সমাবেশকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবেই দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে উন্নয়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।