ভোটার তালিকা থেকে বাদ আন্তর্জাতিক প্যারা অ্যাথলিট আতর আলির নাম, দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াই
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
রাজ্যে বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্কের আবহে এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের হয়ে একাধিক পদকজয়ী প্যারা অ্যাথলিট আতর আলির নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ঘটনায় বিস্মিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই ক্রীড়াবিদ এখন নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। যদিও পরে অতিরিক্ত তালিকায় প্রায় ৪০ লক্ষ নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবুও বহু মানুষের নাম এখনও তালিকার বাইরে রয়ে গিয়েছে। সেই তালিকায়ই উঠে এসেছে আতর আলির নাম। একজন আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদের নাম এভাবে বাদ পড়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে।
আতর আলির কথায়, তিনি প্রথমে বিষয়টি জানতে পারেন যখন নিজের নাম ভোটার তালিকায় খুঁজতে যান। সেখানে ‘ডিলিটেড’ স্ট্যাটাস দেখে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। অথচ তাঁর কাছে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি—পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, এমনকি পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় নাম থাকার প্রমাণও রয়েছে। তবুও কেন তাঁর নাম বাদ পড়ল, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন তিনি।
নাম পুনরুদ্ধারের আশায় ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশাসনিক দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আতর। রানাঘাটের এসডিও অফিস, বিডিও অফিস ঘুরে শেষ পর্যন্ত জেলা শাসকের (ডিএম) সঙ্গেও দেখা করেছেন তিনি। প্রতিটি স্তরেই তিনি প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তাঁর।
এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে তাঁর ক্রীড়াজীবনেও। সামনে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আতর আলি। কিন্তু হঠাৎ এই প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। নিয়মিত অনুশীলনে মনোনিবেশ করতে পারছেন না, যার ফলে বড় মঞ্চে তাঁর পারফরম্যান্সও প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ঘনিষ্ঠরা।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে সরাসরি আর্জি জানিয়েছেন আতর আলি। তাঁর দাবি, যথাযথ যাচাই না করেই যেন কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না দেওয়া হয়। বিশেষ করে যাঁদের সমস্ত বৈধ নথি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এমন ভুল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, গণতান্ত্রিক অধিকারকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে গোটা প্রক্রিয়ায় কোথাও না কোথাও বড় ধরনের ত্রুটি থেকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও যদি এই সমস্যার শিকার হন, তাহলে সাধারণ ভোটারদের দুর্ভোগ কতটা গভীর হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
আতর আলির ঘটনা তাই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং বৃহত্তর প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি প্রতিচ্ছবি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।