কেউ ১০ বছর তো কেউ ১৫ বছর পর ভোট দিলেন! ‘আসল স্বাধীনতা’ দেখল ভোটাররা, বাংলাকে রক্তপাতহীন নির্বাচন উপহার কমিশনের

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 5 h ago
কেউ ১০ বছর তো কেউ ১৫ বছর পর ভোট দিলেন! ‘আসল স্বাধীনতা’ দেখল ভোটাররা, বাংলাকে রক্তপাতহীন নির্বাচন উপহার কমিশনের
কেউ ১০ বছর তো কেউ ১৫ বছর পর ভোট দিলেন! ‘আসল স্বাধীনতা’ দেখল ভোটাররা, বাংলাকে রক্তপাতহীন নির্বাচন উপহার কমিশনের
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

কোন কোন ভোটারের হাতে ভোটের কালি লেগেছে ১০ বছর পর, কেউ আবার যেন বছর ১৫ পর ভোট দিতে বুথ অবধি পৌঁছানোর সুযোগ পেলেন। গত কয়েক দশকে নির্বাচনের দিন পশ্চিমবঙ্গ যে দৃশ্য দেখেনি, ২০২৬-এর সেই অসাধ্য সাধন করে দেখাল নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাজ্যের শেষ দফা ভোটে বিভিন্ন প্রান্তে ভোট দেওয়ার আনন্দ এতটাই বাঁধভাঙা ছিল যে, বহু পরিবারে উৎসবের মেজাজে দিনটি কাটল। ভয় এবং সন্ত্রাস সরিয়ে রেখে নির্ভয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে অনেক ভোটারই বাড়িতে মাংস-ভাতের আয়োজন করেছিলেন। অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে পরিবারের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নিলেন ভোটররা।

খুবই ‘স্পর্শকাতর’ তকমা পাওয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় হোক বা উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, হাড়োয়া ও মিনাখাঁ, ছবিটা ছিল একই। অতীতে এইসব অঞ্চলগুলোতে ভোটের দিন মানেই ছিল বোমার শব্দ আর রাজনৈতিক দলের দাপাদাপি। ঘটত রক্তপাতও। 
 
সেখানে কিন্তু অতীতের সব স্মৃতি মুছে এবার ছিল ভোটারদের লম্বা লাইন। অনেক গ্রামেই ভোটাররা জানালেন, এর আগে হয় তাঁরা বুথে যেতে পারতেন না অথবা গেলেও শুনতেন তাঁদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। এবার নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে সেই ছাপ্পা বা রিংগিং-এর ঘটনা চোখেই পড়েনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে এক বৃদ্ধের সরল স্বীকারোক্তি, এমন শান্তিতে নিজে এসে নিজের ভোট দিতে পারব ভাবিনি। বহুবছর পর ভোট দেওয়ার আনন্দে তাই বাড়িতে খাসির মাংস এনেছি। সবাই মিলে আনন্দ করে খাব। 
 
ভাঙড়ে বিদায়ী বিধায়ক তথা আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকি দিনভর বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখলেন ভোটের চিত্র। ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের অভাবনীয় উৎসাহ দেখে তিনি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “মানুষ ১০-১৫ বছর পর ভোট দিতে পেরে বলছেন।এটাই আসল গণতন্ত্র।” 
 
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালের পর গত ১৫ বছরে এই প্রথম এত ‘অবাধ ও শান্তিপূর্ণ’ ভোট দেখল পশ্চিমবঙ্গবাসী। একটু নজর রাখলে দেখা যাবে, ২০২১ সালে যেখানে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে এবার হিংসাজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল এবং সুব্রত গুপ্ত ও এনকে মিশ্রর সুযোগ্য নেতৃত্বে সুষ্ঠভাবে ভোট পরিচালনা করতে পুলিশ-প্রশাসনে যে বেনজির রদবদল আনা হয়েছিল হয়ত তারই সুফল এই রক্তপাতহীন নির্বাচন। 
 
এবারের নির্বাচনে ভয়ভীতিহীন পরিবেশে দুই দফাতেই ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়া বুঝিয়ে দিল সাধারণ মানুষ আজও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। রাজনৈতিক দলের হুমকি বা বোমা-গুলির শব্দ ছাড়া এই নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হয়ে থাকবে।