কুডোতে অপ্রতিরোধ্য সুহেল খান! টানা ২৩টি জাতীয় সোনা, ১০৫-০ রেকর্ড! এবার জাপানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 16 h ago
স্কুলের সাসপেনশন থেকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন, ২৩টি জাতীয় সোনা ও ১০৫-০ রেকর্ডে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে সুহেল খান
স্কুলের সাসপেনশন থেকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন, ২৩টি জাতীয় সোনা ও ১০৫-০ রেকর্ডে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে সুহেল খান
 
অনিকা মাহেশ্বরী / নয়াদিল্লি                                                                                                                  

পঞ্চম শ্রেণিতে স্কুল থেকে সাসপেন্ড হওয়া থেকে শুরু, আর আজ জাতীয় স্তরে টানা ২৩টি সোনার পদক ও ১০৫টি লড়াইয়ে অপরাজিত থাকার নজির, মধ্যপ্রদেশের সাগরের সুহেল খানের যাত্রা যেন হার না মানার গল্প। মার্শাল আর্টের হাত ধরে করাটে থেকে কুডোর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছেছেন তিনি। ২০১৫ সালে পেশাদারভাবে কুডোকে বেছে নেওয়ার পর একের পর এক সাফল্য এসেছে তাঁর ঝুলিতে। এবার তাঁর চোখ জাপানের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে, যেখানে ভারতের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জেতাই তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।         
 
একসময় স্কুলে দুষ্টু ছেলে হিসেবে পরিচিত সুহেল খান হয়তো তখন ভাবতেও পারেননি, জীবনের সেই কঠিন সময়ই তাঁকে এমন এক পথে এগিয়ে দেবে, যেখানে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম সফল কুডো খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পাবেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের সাগরের বাসিন্দা সুহেল বর্তমানে একজন আন্তর্জাতিক কুডো খেলোয়াড়। ‘মধ্যপ্রদেশের গোল্ডেন বয়’ নামেও পরিচিত তিনি। মার্শাল আর্টের দুনিয়ায় তাঁর যাত্রা শুরু পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়। তবে ২০১৫ সালে তিনি পেশাদারভাবে কুডোকে বেছে নেন।
 
সুহেল খান
 
নিজের যাত্রার শুরুর দিনগুলির কথা বলতে গিয়ে সুহেল জানান, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রায় ছয় থেকে আট মাসের জন্য স্কুল থেকে সাসপেন্ড হওয়া তাঁর জীবনের অত্যন্ত কঠিন একটি অধ্যায় ছিল। স্কুলে ফিরে আসার পর তাঁর মনে হতে থাকে, কোনও দুষ্টুমি হলেই প্রথমে তাঁর নাম নেওয়া হয়। একটি শিশুর পক্ষে এই অভিজ্ঞতা ছিল যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু এই সময়ই তাঁর মধ্যে গঠনমূলক কিছু করার ইচ্ছা তৈরি হয়। সেই সময়ই কোচ ড. মহম্মদ ইজাজ খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনিই সুহেলকে মার্শাল আর্টের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেন।
 
সেই সময় সুহেলের করাটে বা অন্য কোনও মার্শাল আর্ট সম্পর্কে প্রথাগত জ্ঞান ছিল না। সিনেমা ও ছবিতে কুংফু এবং করাটে দেখেছিলেন মাত্র। কিন্তু আত্মরক্ষার একটি প্রদর্শনী তাঁর মনে কৌতূহল তৈরি করে। তিনি দেখেছিলেন, একটি ছোট শিশুও আত্মরক্ষার কৌশল ব্যবহার করে বড়দের মোকাবিলা করতে পারে। সেই দৃশ্য থেকেই মার্শাল আর্ট শেখার ইচ্ছা আরও জোরালো হয় এবং করাটে দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয়।
 
করাটে থেকে কুডো, এক দীর্ঘ পথচলা
 
সুহেলের মার্শাল আর্টের যাত্রা কোনও একটি খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। করাটের পর তিনি তাইকোয়ান্দো এবং উশুর মতো খেলাতেও অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে তিনি সম্পূর্ণভাবে কুডোর প্রতি নিজেকে সমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
 
তাঁর মতে, কুডো জাপানের সঙ্গে যুক্ত একটি কমব্যাট স্পোর্ট, যেখানে বিভিন্ন মার্শাল আর্টের কৌশলের মিশ্রণ দেখা যায়। করাটে, বক্সিং, তাইকোয়ান্দো, জুডো, কিক বক্সিং, স্ট্রাইকিং, কনুই ও হাঁটুর আঘাত এবং গ্রাউন্ড গেমের মতো বিভিন্ন কৌশল এতে ব্যবহার করা হয়। সুহেলের কথায়, এটি আধুনিক সময়ের এমন একটি মার্শাল আর্ট, যেখানে লড়াইয়ের বিভিন্ন দিককে একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
 
সুহেলের মতে, বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার এবং মেহুল ভোরার প্রচেষ্টায় ভারতে কুডো জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতে এই খেলার প্রসারের পিছনে আত্মরক্ষা, বিশেষত মহিলাদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণকে উৎসাহিত করার ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
 
সুহেলের দাবি, কুডো দেশের ২৮টি রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও ছোট শহরে এই খেলার প্রশিক্ষণ এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তাঁর মতে, খেলাটি ভারত সরকারের স্বীকৃত এবং আগামী দিনে কুডোকে আরও শক্তিশালী মূলধারার খেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখতে চান তিনি।
 
সুহেল খান
 
২০১৭ সালে দেশের হয়ে প্রথম জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পদক
 
২০১৫ সালে পেশাদারভাবে কুডোকে বেছে নেওয়ার পর সুহেল রাজ্য, জেলা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন। ২০১৭ সাল তাঁর কেরিয়ারের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই বছর জুনিয়র কুডো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে পদক জেতেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর যাত্রা ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের পাশাপাশি পেয়েছেন একাধিক সম্মানও। আজ তিনি নিজেকে দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ ও সফল কুডো খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
 
জাতীয় স্তরে তাঁর পারফরম্যান্সই তাঁকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। সুহেলের দাবি, তিনি টানা ২৩ বার ন্যাশনাল গোল্ড মেডেল জিতেছেন। তাঁর বক্তব্য, সব ধরনের খেলাকে একত্রে ধরলেও ভারতে টানা এতগুলি জাতীয় স্বর্ণপদক জয়ের রেকর্ড তাঁর নামেই রয়েছে।
 
তিনি আরও জানিয়েছেন, জাতীয় স্তরে ১০৫টি লড়াইয়ে তাঁর জয় ১০৫টি এবং পরাজয় শূন্য। সুহেলের মতে, টানা ন্যাশনাল গোল্ড জয়ের ক্ষেত্রে তাঁর পর দ্বিতীয় দীর্ঘতম রেকর্ড হল টানা ১৮টি স্বর্ণপদক। এই সাফল্যকে তিনি নিজের কাছে একটি বড় দায়িত্ব হিসেবেও দেখেন। ভবিষ্যতেও এই রেকর্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
 
মাত্র ৩.৩০ সেকেন্ডে নকআউটের দাবি
 
কুডোতে সুহেলের আরও একটি উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হল দ্রুততম নকআউটের ঘটনা। তিনি জানান, পুনেতে আয়োজিত চতুর্থ ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে প্রায় ৩.৩০ সেকেন্ডের মধ্যে তিনি প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। সুহেলের দাবি, এটি ভারতের কুডো জগতের দ্রুততম নকআউটগুলির মধ্যে অন্যতম। ওই পারফরম্যান্স তাঁর কেরিয়ারে আরও একটি বিশেষ মাইলফলক যোগ করে।
 
তাঁর বক্তব্য, রাজস্থানের এক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন তিনি। যদিও এই লড়াইয়ের পরিসংখ্যান এবং রেকর্ডের আনুষ্ঠানিক সত্যতা সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার নথি থেকেই নিশ্চিত করা সম্ভব, সুহেলের কাছে সেই মুহূর্ত তাঁর ক্রীড়াজীবনের স্মরণীয় সাফল্যগুলির অন্যতম।
 
‘আমি এখানে শুধু অংশ নিতে নয়, জিততে আসি’
 
জাতীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামার আগে খেলোয়াড়দের উপর চাপ থাকা স্বাভাবিক। সুহেলও স্বীকার করেন, লড়াইয়ের আগে তাঁর মধ্যে উদ্বেগ কাজ করে। পারফরম্যান্স কেমন হবে, পরিস্থিতি কী রকম থাকবে এবং পরিবেশ কেমন হবে, এমন নানা প্রশ্ন তাঁর মাথায় ঘোরে। কিন্তু এই সমস্ত প্রশ্নের মধ্যেও তাঁর মূলমন্ত্র স্পষ্ট, নিজের খেলায় সেরাটা দিতে হবে।
 
রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতা হোক, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা আন্তর্জাতিক লড়াই, সুহেলের বক্তব্য, তিনি শুধু অংশগ্রহণের জন্য মাঠে নামেন না। তাঁর লক্ষ্য জয় এবং নিজের খেলায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। এই মানসিকতা নিয়েই প্রতিটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি।
 
সুহেল খান পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে
 
পরিবারকে রাজি করানো থেকে সমালোচনার মোকাবিলা
 
ভারতে খেলাধুলা নিয়ে প্রচলিত সামাজিক ধারণা আজও বহু পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সুহেলকেও এই মানসিকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সাগরের মতো শহরে তাঁকে বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে, খেলাকে কেরিয়ার হিসেবে বেছে নিলে ভবিষ্যৎ কী?
 
তাঁর কথায়, প্রথম দিকে পরিবারকে বোঝাতে হয়েছিল যে তিনি খেলায় ভালো করছেন এবং তাঁকে এই পথেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। জাতীয় স্তরে পদক জিততে শুরু করার পর এবং তাঁর কোচেরা পরিবারকে সুহেলের ভালো পারফরম্যান্সের কথা বোঝানোর পর পরিবারের সমর্থন আরও মজবুত হয়।
 
তা সত্ত্বেও তাঁকে বহু মানুষের মন্তব্য ও কটাক্ষ সহ্য করতে হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন করেছেন, কুডো করে তিনি শেষ পর্যন্ত কী করতে পারবেন। এমন অনেক মানুষও ছিলেন, যাঁরা এই খেলার নাম পর্যন্ত জানতেন না। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, কুডো যেহেতু অলিম্পিকের খেলা নয়, তাই এই খেলার মাধ্যমে চাকরি বা কেরিয়ার কীভাবে গড়ে উঠবে?
 
সুহেল তর্কে না গিয়ে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে উত্তর দেওয়ার পথ বেছে নেন। তাঁর বিশ্বাস, মানুষ কথা বলতেই থাকবে, কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের কাজ হল নিজের সাফল্যের মাধ্যমে জবাব দেওয়া। এই মনোভাব নিয়েই সমালোচনাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন তিনি।
 
খেলাধুলা থেকেও গড়ে উঠতে পারে কেরিয়ার
 
ভারতীয় সমাজে এমন একটি ধারণা রয়েছে যে পড়াশোনাই নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র পথ। সুহেল মনে করেন, এই ধারণা বদলানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, একবিংশ শতাব্দীতে শুধুমাত্র পড়াশোনার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব, এমন চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, খেলাধুলার জগতেও শিশুদের জন্য কেরিয়ার গড়ার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পদকজয়ী খেলোয়াড়েরা সরকারি চাকরি, বৃত্তি এবং অন্যান্য সুযোগ পাচ্ছেন।
 
তিনি চান, খেলাধুলার এই সম্ভাবনার কথা ছোট শহর, মফস্‌সল এবং গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে যাক। তাঁর মতে, কোনও ছোট শহরের শিশু যখন নিজের আশপাশে কোনও খেলোয়াড়কে সফল হতে দেখে, তখন তার মধ্যেও এই বিশ্বাস জন্মায় যে সেও এমন সাফল্য অর্জন করতে পারে।
 
নিজের শহর সাগর এবং মধ্যপ্রদেশের উদাহরণ দিয়ে সুহেল বলেন, স্থানীয় স্তরে সফল খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। মহিলা ক্রিকেটার ক্রান্তি গৌড়ের মতো খেলোয়াড়দের সাফল্যও ছোট শহরের শিশুদের অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস, এই ধরনের উদাহরণ, সরকারি সহায়তা, সামাজিক উদ্যোগ এবং খেলাধুলা সম্পর্কে পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি একসঙ্গে দেশের স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিকে আরও বড় করে তুলতে পারে।
 
বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে সুহেল খান
 
সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে সুহেলের আলাদা ভাবনা
 
বর্তমান সময়ে খেলোয়াড়দের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সুহেলও মনে করেন, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম খেলোয়াড়দের বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ দেয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা আলাদা। তাঁর বক্তব্য, একজন খেলোয়াড়ের প্রাথমিক দায়িত্ব হল খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা, সারাক্ষণ ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে ওঠার চেষ্টা করা নয়।
 
তাঁর মতে, কোনও খেলোয়াড় যদি নিয়মিত ভিডিও তৈরি, পোস্ট প্রস্তুত এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কনটেন্ট বানাতেই সময় ব্যয় করেন, তাহলে তাঁর প্রশিক্ষণ ব্যাহত হতে পারে। নিজেও এই ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকেন তিনি।
 
তবে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সুহেল। তাঁর মতে, প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজে নিজের গল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন না। তাই সংবাদমাধ্যম, সংবাদ প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রকাশনার উচিত এমন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে নিয়ে আসা, যাঁরা এখনও ব্যাপক পরিচিতি পাননি।
 
নীরজ চোপড়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনও খেলোয়াড়ের পরিচিতি পেতে বছরের পর বছর পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু সাধারণ দর্শক অনেক সময় তাঁকে চিনতে পারেন তখনই, যখন তিনি কোনও বড় মঞ্চে সাফল্য অর্জন করেন। সুহেলের কথায়, কোনও খেলোয়াড় একদিনে তারকা হয়ে ওঠেন না। তাঁর সাফল্যের পিছনে থাকে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম।
 
উত্থান-পতনের মধ্যেও থামেনি যাত্রা
 
নিজের যাত্রাকে ‘রক অ্যান্ড রোল’-এর সঙ্গে তুলনা করেন সুহেল, কখনও উত্থান, কখনও পতন। এমন সময়ও এসেছে, যখন তাঁর মনে হয়েছে, হয়তো পরবর্তী প্রতিযোগিতাটিই তাঁর শেষ টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। এর অন্যতম বড় কারণ ছিল আর্থিক চাপ। অন্যান্য জনপ্রিয় খেলার তুলনায় কুডোতে আর্থিক সুযোগ কম থাকায় প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ, যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না।
 
সুহেল জানান, তাঁর পরিবার মধ্যবিত্ত পটভূমি থেকে উঠে এসেছে। অনেক সময় পরের মাসে কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে পরিবারকে টাকা জমিয়ে তাঁর যাতায়াত ও প্রতিযোগিতার খরচ বহন করতে হত। তাঁর মতে, বর্তমানে কুডোর মতো খেলায় প্রতিযোগিতার ফি এবং অন্যান্য খরচ অনেকটাই বেড়েছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, কিছু প্রতিযোগিতায় প্রবেশমূল্যই কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এত সমস্যার মধ্যেও তিনি খেলা ছেড়ে দেননি।
 
স্পোর্টস কোটায় সরকারি চাকরি
 
সুহেলের কেরিয়ারে বড় মোড় আসে যখন তিনি স্পোর্টস কোটার মাধ্যমে আয়কর বিভাগে চাকরি পান। বর্তমানে তিনি মুম্বইয়ে আয়কর বিভাগে কর্মরত। তাঁর বক্তব্য, ভারত সরকার খেলাধুলায় সাফল্যের ভিত্তিতে স্পোর্টস কোটার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সরকারি চাকরির সুযোগ দেয়। এই ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষাগত নম্বরের তুলনায় বিগত বছরগুলিতে অর্জিত ক্রীড়া সাফল্য ও পদক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পারফরম্যান্স করা খেলোয়াড়দের মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়। সুহেলের মতে, আগে তুলনায় এই ধরনের চাকরির সুযোগ বেড়েছে। তবে খেলোয়াড়ের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে।
 
তাঁর বিশ্বাস, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের পক্ষে সরকারি চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়। তাই জাতীয় স্তরের খেলোয়াড়দের জন্যও আলাদা সহায়তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। প্রত্যেক খেলোয়াড় জাতীয় পদক জিততে পারেন না, আবার প্রত্যেক জাতীয় পদকজয়ী আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছতে পারেন না। তা সত্ত্বেও বছরের পর বছর তাঁদের পরিশ্রমের কথা মাথায় রেখে বৃত্তি এবং অন্যান্য সহায়তা দেওয়া উচিত।
 
সুহেল খান
 
‘প্রত্যেক খেলোয়াড়কে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু সহায়তা ব্যবস্থা অবশ্যই প্রয়োজন’
 
সুহেলের মতে, খেলোয়াড়দের সাহায্য করার জন্য সরকারের শুধু চাকরির উপর নির্ভর করা উচিত নয়। প্রশিক্ষণ, বৃত্তি এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের খরচের ক্ষেত্রেও সহায়তা করা প্রয়োজন। তাঁর যুক্তি, জাতীয় স্তরে হাজার হাজার খেলোয়াড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু পদক পান মাত্র কয়েকজন। এর অর্থ এই নয় যে বাকিরা কম পরিশ্রম করছেন।
 
অনেক সময় পারফরম্যান্সের ব্যবধান থাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের, কিংবা খুব সামান্য ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। সেই কারণেই তিনি মনে করেন, খেলাধুলার জন্য একটি বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রস্তুতি নেওয়া কোনও খেলোয়াড়কে শুধুমাত্র আর্থিক সমস্যার কারণে পিছিয়ে যেতে না হয়।
 
২৩টি ন্যাশনাল গোল্ড জয়ের পরেও নিজের খরচেই প্রশিক্ষণ
 
সুহেলের গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, জাতীয় স্তরে এত সাফল্য অর্জনের পরেও তাঁর প্রশিক্ষণ এবং যাতায়াতের বড় অংশের খরচ এখনও ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হয়। তিনি জানান, সাগর হোক বা মুম্বাই, প্রশিক্ষণ, ডায়েট এবং যাতায়াতের খরচ নিজেকেই বহন করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বহুবার নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হয়েছে তাঁকে।
 
তাঁর মতে, কোনও খেলোয়াড় যখন ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যান, তখনও যাতায়াত, থাকা, খাওয়াদাওয়া এবং প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক খরচ সামনে আসে। সুহেল জানান, কুডোর সম্পূর্ণ কিটও বেশ ব্যয়বহুল। এর মধ্যে রয়েছে হেড গিয়ার, ইউনিফর্ম এবং গ্লাভসের মতো সরঞ্জাম। তাঁর মতে, কুডোর সম্পূর্ণ কিটের দাম প্রায় দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
 
তিনি বলেন, কুডোর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা ও পদাধিকারী কিটের মতো সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন। কিন্তু বিমানের টিকিট, থাকা-খাওয়ার খরচ, প্রতিযোগিতার ফি এবং অন্যান্য ব্যয় জোগাড় করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
 
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উদাহরণ দিয়ে সুহেল জানান, একজন খেলোয়াড়ের মোট খরচ কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক স্তরের কোনও একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খরচ অনেক সময় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে যায়। এই কারণেই প্রতিভাবান কুডো খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক স্তরে এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে, এমন স্পনসরের খোঁজ করছেন তিনি।
 
অক্ষয় কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বিশেষ সম্পর্ক
 
কুডোর সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও পেয়েছেন সুহেল। তাঁর মতে, ভারতে কুডোর প্রসারে অক্ষয় কুমার অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। সুহেল জানান, অক্ষয় কুমার এবং মেহুল ভোরা ভারতে এই খেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণকে উৎসাহিত করাও ভারতে কুডো নিয়ে আসার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
 
সুহেলের মতে, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য অর্জনের পর খেলোয়াড়েরা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। সরকারি চাকরিতে নির্বাচিত হওয়ার পর অক্ষয় কুমারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের অভিজ্ঞতাও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
 
তিনি জানান, অক্ষয় কুমার খেলোয়াড়দের ডেকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। সুহেলের কথায়, তাঁর পাশে বসে কথা বলার সময় এক অন্য ধরনের শক্তি ও অনুপ্রেরণা অনুভব করেছিলেন তিনি।
 
‘India’s Top 1%’ শোয়ে অনিল কাপুরের সঙ্গে একই মঞ্চে
 
খেলাধুলার পাশাপাশি সম্প্রতি বিনোদন ও কুইজ শোয়ের মঞ্চেও হাজির হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন সুহেল। তিনি জানান, অনিল কাপুরের সঞ্চালনায় ‘India’s Top 1%’ শোয়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, এটি যুক্তি ও রিজনিং-ভিত্তিক একটি অনুষ্ঠান, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্র ও পেশার মানুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিযোগীদের সামনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ রাখা হয় এবং সঠিক উত্তর দিতে পারলে বড় অঙ্কের পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকে।
 
সুহেল জানান, কোনও প্রতিযোগী যদি ১৩টি প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর দিতে পারেন, তাহলে এক কোটি টাকা পর্যন্ত জেতার সুযোগ রয়েছে। খেলাধুলার বাইরের যুক্তি ও কুইজ-ভিত্তিক প্রশ্ন তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি এটিকে শেখার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। অনিল কাপুরের সঙ্গে একই মঞ্চে সময় কাটানো তাঁর কাছে সৌভাগ্যের বিষয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
 

খেলার বাইরে ভ্রমণ, অ্যাডভেঞ্চার এবং খাবারের প্রতি ভালোবাসা
 
নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের শখের জন্য সময় বের করেন সুহেল। ভ্রমণ এবং অ্যাডভেঞ্চার তাঁর বিশেষ পছন্দ। ভবিষ্যতে বাঞ্জি জাম্পিং ও প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চারমূলক কার্যকলাপ আরও বেশি করে উপভোগ করতে চান তিনি।
 
খাবারও তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। তবে খেলোয়াড় হওয়ার কারণে ডায়েটের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয় তাঁকে। দিল্লিতে এসে ছোলে ভাটুরে, পাপড়ি চাট এবং কয়েকটি আমিষ পদ চেখে দেখেছেন তিনি। সুহেলের কথায়, প্রতিযোগিতা চলাকালীন খাবারের বিষয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। তবে প্রতিযোগিতা শেষ হলে নিজের পছন্দের খাবার খাওয়ার আনন্দ উপভোগ করেন তিনি।
 
পরবর্তী লক্ষ্য: জাপানের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা
 
এখন সুহেলের নজর তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যের দিকে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে স্বর্ণপদক জয়। তিনি জানান, ২০২৩/২৫ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বুলগেরিয়ায় রুপোর পদক জিতেছিলেন তিনি। এবার জাপানে আয়োজিত হতে চলা পরবর্তী বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জেতাই তাঁর লক্ষ্য। এই সাফল্যকে নিজের কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন তিনি।
 
সুহেলের বক্তব্য, তাঁর দল কঠোর পরিশ্রম করছে এবং এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা শুধু নিজের সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি চান, কুডোতে ভারত বিশ্বমঞ্চে স্বর্ণপদক জিতুক এবং সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের সঙ্গে তাঁর নামও জড়িয়ে থাকুক।
 
সাগরে খেলোয়াড়দের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ার স্বপ্ন
 
সুহেলের ভবিষ্যতের আরও একটি বড় স্বপ্ন জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নিজের শহর সাগরের সঙ্গে। সেখানে একটি এনজিও, ডোজো অথবা উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান তিনি। এমন একটি জায়গা, যেখানে আর্থিক সমস্যার কারণে খেলা ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়া প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা সাহায্য পাবেন।
 
তাঁর কথায়, এমন অনেক খেলোয়াড়কে তিনি দেখেছেন, যাঁরা তাঁর থেকেও ভালো প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং আর্থিক সমস্যার কারণে তাঁদের খেলা ছেড়ে দিতে হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও খেলোয়াড়কে যাতে শুধু প্রশিক্ষণ বা প্রতিযোগিতার খরচ জোগাড় করতে না পারার কারণে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে না হয়, সেটাই নিশ্চিত করতে চান সুহেল।
 
তাঁর পরিকল্পনা, সাগরে এমন একটি কেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পাবেন। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা খেলোয়াড়দের জন্য অর্থসাহায্য ও স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করা হবে এবং তাঁদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নিজের শহরেই এমন পরিকাঠামো গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য, যার অভাবে আজ তাঁকে প্রশিক্ষণের জন্য সাগরের বাইরে যেতে হয়েছে।
 
শুধু খেলোয়াড় নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করতে চান সুহেল
 
সুহেল খানের গল্প শুধু একের পর এক পদকজয়ী খেলোয়াড়ের কাহিনি নয়। এটি এমন এক সংগ্রামের গল্প, যেখানে একটি ছোট শহরের খেলোয়াড় প্রচলিত ধারণা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, পরিচিতির অভাব এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর ঘাটতি সত্ত্বেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছেন।
 
পঞ্চম শ্রেণিতে স্কুল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর মার্শাল আর্টের পথে এগিয়ে যাওয়া সেই শিশুটি আজ টানা ২৩টি ন্যাশনাল গোল্ড মেডেল জয়ের দাবিদার। করাটে দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর যাত্রা তাইকোয়ান্দো ও উশু হয়ে পৌঁছেছে কুডোতে। ২০১৭ সালের জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পদক, দ্রুত নকআউট, জাতীয় স্তরে ১০৫-০ রেকর্ড, সরকারি চাকরি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি, একাধিক ধাপ পেরিয়ে এগিয়েছে তাঁর এই সফর।
 
কিন্তু সুহেলের কাছে এই যাত্রা এখনও শেষ হয়নি। তাঁর চোখ এখন জাপানের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে, যেখানে ভারতের হয়ে কুডোতে প্রথম বিশ্বস্বর্ণ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামতে চান তিনি। এর পাশাপাশি নিজের শহর সাগরে এমন একটি ক্রীড়াকেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্নও দেখেন তিনি, যাতে পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের তাঁর মতো আর্থিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।
 
সুহেলের ভাবনার সারকথা তাঁর নিজের কথাতেই স্পষ্ট, মানুষের কটাক্ষ ও প্রশ্ন চলতেই থাকবে, কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের উত্তর হওয়া উচিত তাঁর কাজ ও পারফরম্যান্স। জাতীয় স্তরে টানা ২৩টি স্বর্ণপদক জয়ের পর এবার বিশ্বমঞ্চে ভারতের হয়ে স্বর্ণপদক জিতে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সেই উত্তর দিতে চান তিনি।


শেহতীয়া খবৰ