গুয়াহাটি:
বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে বুধবার ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে যেন রেকর্ডের খাতা নতুন করে লিখল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫ রানের জবাবে ভারত মাত্র ৪৩.৩ ওভারে ৪০৬/২ তুলে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। ৪০০-র বেশি রান তাড়া করে ওয়ানডেতে এটি দ্বিতীয় সফল রানচেজ এবং ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফল রানচেজ। এই জয়ের ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিল ভারত।
এই ঐতিহাসিক রানচেজের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন অধিনায়ক শুভমন গিল। ১৩৩ বলে অপরাজিত ২২৩ রান করে তিনি শুধু ভারতের জয় নিশ্চিত করেননি, সফল রানচেজে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নজিরও গড়েছেন। ১১৭ বলে দ্বিশতরান পূর্ণ করে গিল গড়েছেন ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ঈশান কিষাণের ১২৬ বলে দ্বিশতরানের। গিলের ইনিংসে ছিল ২৬টি চার ও ৮টি ছক্কা।
এটি ওয়ানডেতে গিলের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০৮ রান করার পর এবারও দ্বিশতরান করে তিনি রোহিত শর্মার পর একাধিক ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ব্যাটার হলেন। একই সঙ্গে রান তাড়া করতে নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার গিল; এর আগে এই নজির ছিল অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের।
গিলের আগে ইনিংসের ভিত গড়ে দেন রোহিত শর্মা। ৭৫ বলে ১০১ রান করেন তিনি। এটি রোহিতের ৩৫তম ওয়ানডে শতরান এবং এই ইনিংসের মধ্যেই তিনি ১২ হাজার ওয়ানডে রান পূর্ণ করেন। সচিন তেন্ডুলকর ও বিরাট কোহলির পর তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে এই মাইলফলকে পৌঁছলেন রোহিত। তিনি ওয়ানডেতে ১২ হাজার রান করা সপ্তম ব্যাটারও।
রোহিত ও গিলের জুটি আরও একটি বড় রেকর্ড তৈরি করে। দু’জনে মিলে ২৫৫ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়েন, যা ভারতের মাটিতে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি। ৩৫০-র বেশি রান তাড়া করতে গিয়ে ওয়ানডেতে প্রথমবার কোনও ওপেনিং জুটি ২০০ রানের গণ্ডি পার করার নজিরও তৈরি হয় এই ম্যাচে।
অন্যদিকে, প্রথমে ব্যাট করেও ইতিহাস গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৪০৫ রান, যা পুরুষদের ওয়ানডেতে তাদের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এবং প্রথমবার ৪০০-র গণ্ডি পার করার নজির। আগের সর্বোচ্চ ছিল ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৮৯ রান।
ক্যারিবিয়ান ইনিংসেও ছিল বিরল রেকর্ড। জন ক্যাম্পবেল ১০১, শাই হোপ ১০৪ এবং আমির জাঙ্গু ১১৪—একই ইনিংসে তিন ব্যাটারের শতরান। ওয়ানডে ইতিহাসে একই দলের তিন ব্যাটারের শতরান করার ঘটনা এর আগে মাত্র পাঁচবার ঘটেছিল। এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ব্যাটারই প্রথমবার ভারতের বিরুদ্ধে একই ওয়ানডে ইনিংসে শতরান করেন।
শাই হোপের ১০৪ ছিল তাঁর ২০তম ওয়ানডে শতরান। এর ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে শতরানের তালিকায় ব্রায়ান লারাকে টপকে ক্রিস গেইলের পর দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
ম্যাচের আরেকটি মাইলফলক ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের। ২/৬৫ বোলিং করে কিমো পলের উইকেট নেওয়ার পথে তিনি ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট পূর্ণ করেন। মাত্র ১২৩ ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছে কুলদীপ ভারতীয় স্পিনারদের মধ্যে দ্রুততম এবং বিশ্বে দ্রুততম স্পিনারদের তালিকায় তৃতীয়। তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করা নবম ভারতীয় বোলার।
সব মিলিয়ে গুয়াহাটির ম্যাচে দুই ইনিংসে উঠেছে ৮১১ রান। ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার একই ম্যাচে পাঁচটি শতরান দেখা গেল—ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিনটি এবং ভারতের রোহিত ও গিলের দুটি। আর ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ভারত লিখল তাদের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সফল রানচেজের নতুন অধ্যায়।
এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ ভারতের। শেষ ম্যাচ ৩ অক্টোবর চণ্ডীগড়ে।