১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি জিতল ইস্ট জোন

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি জিতল ইস্ট জোন
১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি জিতল ইস্ট জোন

১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি জিতল ইস্ট জোন

চেন্নাই:

গত ১২ সেশনে ম্যাচে সম্পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখার পর শেষ পর্যন্ত ১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি জিতে নিল ইস্ট জোন। বৃহস্পতিবার এখানে ফাইনালের পঞ্চম ও শেষ দিনে প্রথম ইনিংসে বিশাল লিডের ভিত্তিতে সাউথ জোনের বিরুদ্ধে ট্রফি নিশ্চিত করে তারা

ম্যাচ ড্র হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ইস্ট জোন ৭ উইকেটে ৩৮৮ রান তুলে সামগ্রিক লিড বাড়িয়ে ৭৬০ রানে নিয়ে যায়।মোহাম্মদ কৌনিয়ান কুরেশি এই ম্যাচের শতরানকারীদের তালিকায় নিজের নাম লেখান। ১৭৯ বলে বাঁহাতি পেসার সি ভি মিলিন্দের বলে দুই রান নিয়ে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। দুই ম্যাচের প্রথম শ্রেণির কেরিয়ারে এটিই তাঁর প্রথম শতরান। কুরেশি অপরাজিত ১১৬ রান করেন। সপ্তম উইকেটে অনুকূল রায়ের সঙ্গে ১৫০ রানের জুটি গড়েন তিনি। অনুকূলের ব্যাট থেকে আসে ৬৪ রান।

তবে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ম্যাচ ড্র ঘোষণা করে দুই দল হাত মেলানোর অনেক আগেই ইস্ট জোন ট্রফি জয়ের দৌড়ে এগিয়ে গিয়েছিল। প্রথম ইনিংসে ৭০৮ রানের বিশাল স্কোর তুলে তারা ৩৭২ রানের লিড তৈরি করে।

ইস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই দাপট অব্যাহত থাকে। দিনের শুরুতে ৫ উইকেটে ২১২ রান থেকে ব্যাট করতে নামা ইশান কিশানের নেতৃত্বাধীন দলকে সাউথের দিশাহীন বোলিং খুব একটা সমস্যায় ফেলতে পারেনি।

অভিজ্ঞ মহম্মদ সিরাজ কিছু সময়ের জন্য আগ্রাসন ও গতি নিয়ে বোলিং করলেও তাঁর প্রচেষ্টা কার্যত একক হয়ে পড়ে। তাঁকে সেভাবে সহযোগিতা করতে পারেননি দলের অন্য বোলাররা। একইসঙ্গে সাউথ জোনের দুর্বল ব্যাটিংও দলের নির্বাচনের খামতিগুলিকে স্পষ্ট করে দেয়।

দলের নির্বাচকেরা করুণ নায়ার, মায়াঙ্ক আগরওয়াল ও সাই কিশোরের মতো ফর্মে থাকা এবং প্রমাণিত খেলোয়াড়দের উপেক্ষা করেছিলেন। তাঁদের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়েরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অন্যদিকে ইস্ট জোনের একাধিক খেলোয়াড় সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন।

প্রথম ইনিংসে ২৭০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ইশান কিশান লাল বলের ক্রিকেটে নিজের প্রস্তুতির প্রমাণ দেন। নিজের ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নামা অভিজ্ঞ মহম্মদ শামিও তরুণদের পিছনে ফেলে দুর্দান্ত লড়াই করেন।

কুমার কুশাগ্র নিজের প্রথম শ্রেণির কেরিয়ারের ষষ্ঠ শতরান করেন। তাঁর ঝাড়খণ্ডের সতীর্থ শিখর মোহনও মার্জিত ও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে অর্ধশতরান করেন। সব মিলিয়ে অধিনায়ক হিসেবেও ইশান কিশানের কৌশলগত সচেতনতা নজর কাড়ে।

দল বিশাল স্কোর তোলার পর কিশানের মূল লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—সাউথের ১০ উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসে লিড নিশ্চিত করা। নিজের পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সি অধিনায়ক বলেন, অধিনায়ক হিসেবে প্রথম কাজ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা। দল প্রায় দু’দিন ব্যাট করেছে এবং এরপর ম্যাচটি মূলত প্রথম ইনিংসের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল। তাই প্রথম লক্ষ্য ছিল ১০টি উইকেট তুলে নিয়ে লিড নেওয়া। এমন লিড তৈরি হয়ে গেলে প্রচণ্ড গরমে আবার মাঠে নেমে ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন কেন থাকবে—এমনই ছিল তাঁর বক্তব্য।

কিশানের এই মন্তব্যে ঘরোয়া নকআউট ম্যাচকে পাঁচ দিন পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়ে ফল বের করার উদ্দেশ্য এবং শুধুমাত্র প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে ট্রফি নিশ্চিত করার কৌশলের মধ্যে থাকা দ্বন্দ্বটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে ইস্ট জোনের কাছে এখন সেই প্রযুক্তিগত বিতর্কে না গিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর পর কাঙ্ক্ষিত সাফল্য উদযাপনের সময়।



শেহতীয়া খবৰ