কলকাতা
প্রেমের টানে একদিন নিজের দেশ, পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে ভারতে পা রেখেছিলেন বাংলাদেশের তরুণী সুমাইয়া খাতুন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৯ বছর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক হিন্দু যুবকের সঙ্গে পরিচয়, সেই পরিচয় ধীরে ধীরে রূপ নেয় ভালোবাসায়। পরে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতের মধ্যমগ্রামের একটি মন্দিরে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় তাঁদের সংসার। দুই বছরের দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় একটি সন্তানও। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। বর্তমানে সন্তানকে কোলে নিয়ে আবারও বাংলাদেশের পথে পা বাড়াতে হয়েছে সুমাইয়াকে।
সম্প্রতি বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে দেখা যায় তাঁকে। সুমাইয়ার দাবি, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর স্বামী তাঁকে ভারতে না থাকার পরামর্শ দেন।
বহুদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থার কথা বাবা-মাকে জানান সুমাইয়া। খবর পেয়ে সীমান্তে পৌঁছে যান তাঁর বাবা-মা। দীর্ঘদিন পর মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আনন্দের সঙ্গে মিশে ছিল বিচ্ছেদের বেদনা এবং অনিশ্চয়তার ছায়া।
সীমান্তে দাঁড়িয়ে আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হন উপস্থিত অনেকে। সুমাইয়ার কণ্ঠে তখন শুধু একটাই আক্ষেপ, যে ভালোবাসার জন্য একদিন নিজের দেশ ছেড়েছিলেন, আজ সেই ভালোবাসার স্মৃতি আর সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই তাঁকে ফিরে যেতে হচ্ছে জন্মভূমিতে।
ভালোবাসা, ত্যাগ, আশা এবং বাস্তবতার কঠিন সমীকরণে গড়ে ওঠা এই গল্প সীমান্তের দুই প্রান্তের মানুষের মনেও গভীর আবেগের সঞ্চার করেছে।