রাজ্যব্যাপী মাদ্রাসা সমীক্ষা শুরু পশ্চিমবঙ্গে, ৫ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট চাইল রাজ্য সরকার
দেবকিশোর চক্রবর্তী
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, পরিকাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নথিপত্রের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করতে রাজ্য সরকার একটি রাজ্যব্যাপী সমীক্ষা শুরু করেছে। এই সমীক্ষার আওতায় সরকারি স্বীকৃত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, বেসরকারি এবং অসহায়তাপ্রাপ্ত (Unaided) মাদ্রাসাগুলির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। জেলা প্রশাসনকে আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসে রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর একটি নির্দেশিকা জারি করে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি জেলার প্রশাসনকে ব্লক ও পুরসভা স্তরে সমীক্ষা চালিয়ে মাদ্রাসাগুলির অবস্থান, প্রতিষ্ঠার সাল, নিবন্ধনের তথ্য, প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্রের উপস্থিতি, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি আবাসিক নাকি অনাবাসিক, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত নাকি সম্পূর্ণ বেসরকারি, সেখানে কী ধরনের পাঠক্রম চালু রয়েছে এবং কী ধরনের পরিকাঠামো রয়েছে, তাও রিপোর্টে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সমীক্ষার মূল উদ্দেশ্য প্রশাসনিক। মাদ্রাসা শিক্ষার বর্তমান চিত্র সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ ডেটাবেস তৈরি করতে চায় সরকার, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষা পরিকল্পনা, ছাত্রকল্যাণমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা হয়।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মাদ্রাসাগুলির শিক্ষার পরিবেশ, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং নথিপত্রের যথার্থতা পর্যালোচনা করা হবে। কোথাও নথিপত্রের ঘাটতি বা বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের বিষয় সামনে এলে, সমীক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার পর সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তবে রাজ্য সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই সমীক্ষার উদ্দেশ্য মাদ্রাসাগুলির বর্তমান পাঠক্রম বা শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো পরিবর্তন করা নয়। বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা গ্রহণ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, জেলার ভিত্তিতে প্রাপ্ত রিপোর্টগুলি বিশ্লেষণ করে কোথায় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন, কোথায় প্রশাসনিক ঘাটতি রয়েছে এবং ছাত্রকল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও কীভাবে জোরদার করা যায়, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মাদ্রাসাগুলির একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা গ্রহণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেই কারণেই এই রাজ্যব্যাপী সমীক্ষাকে পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।