পবিত্র হজ শেষে দেশে ফেরা, বিমানবন্দরে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা সংখ্যালঘু মন্ত্রীর

Story by  Nurul Haque | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 10 h ago
 পবিত্র হজ শেষে দেশে ফেরা, বিমানবন্দরে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা সংখ্যালঘু মন্ত্রীর
পবিত্র হজ শেষে দেশে ফেরা, বিমানবন্দরে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা সংখ্যালঘু মন্ত্রীর
নুরুল হক,আগরতলাঃ 

মক্কার পবিত্র হজ পালন শেষে অবশেষে নিজভূমি ত্রিপুরায় ফিরলেন রাজ্যের ৭৪ জন হজযাত্রী এবং একজন রাজ্য হজ ইন্সপেক্টর। সোমবার আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন উপস্থিতির পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, যিনি এই প্রত্যাবর্তনকে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় সফরের সমাপ্তি নয়, বরং রাজ্যের সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন।

বিমানবন্দরে পৌঁছে মন্ত্রী একে একে হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, তাঁদের শারীরিক সুস্থতা ও সফরের অভিজ্ঞতার খোঁজখবর নেন। পবিত্র হজ পালন শেষে সকল যাত্রী নিরাপদে রাজ্যে ফিরে আসায় তিনি দু'হাত তুলে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং তাঁদের জন্য দোয়া কামনা করেন।

পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া হজযাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, এই পবিত্র সফরের সফল সমাপ্তি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, গোটা ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়। তিনি রাজ্যের শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির জন্য সকলের কাছে প্রার্থনার আহ্বানও জানান।

 
ত্রিপুরা সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া হজযাত্রীদের বরণ অনুষ্ঠানে
 
হজযাত্রীদের বরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য হজ কমিটির চেয়ারম্যান শাহ আলম, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নির্মল অধিকারী-সহ একাধিক কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানে একটি সর্বজনীন সামাজিক তাৎপর্য এনে দেয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ত্রিপুরার হজযাত্রীরা আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল তাঁরা সৌদি আরবে পৌঁছে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এই হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসল্লির সঙ্গে তাঁরা মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ প্রায় দেড় মাসের এই আধ্যাত্মিক সফর শেষে তাঁরা ৬ জুন রাতে দেশে ফেরার যাত্রা শুরু করেন এবং কলকাতা হয়ে সোমবার ত্রিপুরায় পৌঁছান।

হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ বলে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে সমবেত হন, যা বিশ্বের বৃহত্তম শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশগুলোর অন্যতম।

হজযাত্রীদের শুভেচ্ছা বিনিময়
 
ত্রিপুরার সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রীর এই উপস্থিতি এবং আন্তরিকতা একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বহু ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের ঐতিহ্য রয়েছে ত্রিপুরায়। হজযাত্রীদের স্বাগত জানিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া সেই ঐতিহ্যকেই আরও সুদৃঢ় করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সৌহার্দ্যের পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়। বর্তমান সময়ে যখন বিভিন্ন কারণে বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়, তখন এই ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেয়।

রাজ্যের বিভিন্ন মহলেও হজযাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির চর্চাকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের এই ধরনের অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

হজ শেষে ফিরে আসা ত্রিপুরার এই ৭৪ জন পুণ্যার্থীর মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি, চোখে ছিল আবেগ আর হৃদয়ে ছিল পবিত্র ভূমির স্মৃতি। তাঁদের এই প্রত্যাবর্তন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করার নয়, বরং মানবতা, সহমর্মিতা এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার এক অনন্য শক্তি।

পবিত্র হজের সেই শিক্ষা বুকে ধারণ করেই এবার নতুন করে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা নিয়ে ঘরে ফিরলেন ত্রিপুরার হজযাত্রীরা।