আগরতলার আন নূর একাডেমিতে সরস্বতী পূজায় সর্বধর্মের সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত

Story by  Nurul Haque | Posted by  Aparna Das • 11 d ago
আগরতলার আন নূর একাডেমিতে সরস্বতী পূজায় সর্বধর্মের সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত
আগরতলার আন নূর একাডেমিতে সরস্বতী পূজায় সর্বধর্মের সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত
 
নূরুল হক / আগরতলা

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে স্কুলের গণ্ডির মধ্যে দেশের জাতীয় ঐক্য এবং বিবিধের মাঝে মিলনের চিত্র ফুটে উঠলো, ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার লাড্ডু চৌমুহনী স্থিত "আন নূর একাডেমিতে।"
 
মুসলিম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আন নূর একাডেমিতে শুক্রবার শ্রী পঞ্চমী তিথি উপলক্ষে ঘটা করে অনুষ্ঠিত হল বিদ্যা দেবী সরস্বতীর আরাধনা। সরস্বতীর প্রতিমা আনা থেকে শুরু করে পূজার অঞ্জলি পর্ব এবং প্রসাদ বিতরণ সবকিছুতেই দেখা গেছে জাত ধর্মের ঊর্ধ্বে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছেন হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষক সদস্য, ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকরা। সরস্বতী পুজাকে কেন্দ্র করে স্কুল অঙ্গনে সম্প্রীতির চিত্র  সবার নজর কেড়েছে।
 

আগরতলা শহরের পশ্চিম নোয়াবাদী লাড্ডু চৌমনীতে পাঁচ বছর আগে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন। মুসলিম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে শুরু থেকেই সর্ব ধর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষক সদস্য এবং ছাত্রছাত্রী রয়েছেন আন নূর একাডেমিতে।
 
শুক্রবার সরস্বতী পূজার শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মঈন উদ্দিন, স্কুলের প্রিন্সিপাল ইয়ার হোসেন, শিক্ষিকা সুস্মিতা পাল সহ অন্যান্যরা। সম্পূর্ণ সনাতনী রীতিতে স্কুল অঙ্গনে সরস্বতীর আরাধনা পর্ব সম্পন্ন করেন পুরোহিত। ধর্মীয় নিয়ম নীতি পরিচালনা করেন সনাতনী শিক্ষিকারা। পাশে থেকেই সব রকমের সহযোগিতা করেছেন প্রতিষ্ঠাতা মঈন উদ্দিন, প্রিন্সিপাল সহ মুসলিম শিক্ষিকারা।
 
অঞ্জলি নেওয়া থেকে প্রসাদ গ্রহণ সবকিছুতেই দেখা গেছে হিন্দু মুসলিমদের সমান অংশগ্রহণ। স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মঈন উদ্দিন বলেন পাঁচ বছর হয়েছে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছে। নূর অর্থ হচ্ছে আলো। এই আন নূর একাডেমী তৈরি করা হয়েছে অন্ধকার থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার আলোকে আনতে। যেখানে শিক্ষার আলো থাকে সেখানে ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকতে পারে না।
 
আন নূর একাডেমিতে সরস্বতী পূজায় হিন্দু-মুসলিমের মিলনমেলা
 
সব ধর্মের ছাত্র-ছাত্রীকেই মানবতা এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিভেদের মধ্যে মিলনের পাঠ দেওয়া হয়। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবছর স্কুলে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন সরস্বতী পূজায় আমরা সবাই মিলেমিশে এক হয়ে যায়। অনেক আনন্দ হয় ছাত্রছাত্রীরা অনেক আনন্দ করে। আনন্দের মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ কিংবা নিষেধাজ্ঞা আমরা কোনদিন কল্পনাও করতে পারি না। সব ধর্মের অনুষ্ঠানকেই আমরা সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। 
 
একইভাবে স্কুলের শিক্ষিকা সুস্মিতা পাল বলেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং অধ্যক্ষ আমাদেরকে সমস্ত কিছু ব্যবস্থা করে দিয়েছেন কিছু এবং আমরা আয়োজন করেছি। এখানে আমরা সবাই একসাথে মিলেই স্কুলের পরিবার।  সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠানে সর্ব ধর্ম একতার এই বার্তা স্কুলের শিশু ছাত্র-ছাত্রীদের মনে ভারতীয় সংস্কৃতির ভাবধারাকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে অভিভাবক মহল আশাবাদী।