মধ্যরাতে আবেগের আলোয় মোদির জন্মদিন উদযাপন! ৭৬টি মোমবাতি জ্বালিয়ে ও লজেন্স-কলম বিলিয়ে অশোকনগরে উৎসবের পরিবেশ
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
মধ্যরাতেই তৈরি হল অন্য পরিবেশ। মোদির জন্মদিন উদযাপন হল অন্যভাবে। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক রাত বারোটা বাজতেই অন্য এক আবেগে ভাসল উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উদযাপনে মাঝরাতেই অনুগামীদের ভিড় বাড়তে লাগল। প্রিয় নেতার জন্মদিনে যেন দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি উল্লাসে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অশোকনগর-কল্যাণগড় পৌরসভার অন্তর্গত চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় বুধবার রাত ১২ বাজতেই মুহূর্তের মধ্যে মধ্যরাতের পরিবেশ বদলে গিয়ে এক উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়ে গেল।
ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নরেন্দ্র মোদির একটি বড় ছবিকে সামনে রেখেই পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে জমজমাট আয়োজনে অংশগ্রহণ করলেন। ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হল। সেইসঙ্গে বয়স নিরিখে জ্বালানো হল ৭৬টি মোমবাতি। রাতের কালো আকাশ এদিন বদলে গেল। বাজির আলোয় উল্লাস প্রকাশ করেন বিজেপির বিভিন্ন মণ্ডলের নেতৃত্ব, কর্মী থেকে শুরু করে মহিলা মোর্চার সদস্যা ও সাধারণ মানুষ। তবে শুধু কেক কাটা বা বাজি ফাটানোতেই সীমাবদ্ধ ছিলনা এদিনের আয়োজন। অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাধারণ মানুষের হাতে কলম ও লজেন্স তুলে দেওয়া। মোদির জন্মদিনকে এভাবে পালনে উদ্যোক্তাদের এই অভিনব ভাবনায় উপস্থিত সকলেই আপ্লুত হয়ে গেলেন।
অনুষ্ঠানের আকর্ষণ আরও বেড়ে গেল স্থানীয় মানুষের পুরোনো স্মৃতিচারণা থেকে। এই বিশেষ মুহুর্তে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে স্মরণ করেন অতীতে অশোকনগরে নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী প্রচারে আসার সোনালী মুহূর্তগুলি। নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা পরিসরের সেই স্মৃতিকে আঁকড় ধরেই মাঝরাতে তাঁর এই জন্মদিনকে কেন্দ্র করে প্রাণ খুলে সামিল হয়েছিলেন সবস্তরের মানুষজন।
মহিলা মোর্চার নেত্রীরা জানান, এই মধ্যরাতের উদযাপনের রেশ এখানেই শেষ হচ্ছে না। জন্মদিনকে ঘিরে অশোকনগরের বিভিন্ন মন্দিরে মোদিজির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ পুজো দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। মন্দিরে ভোগ নিবেদনের কথাও জানা যায়।
সব মিলিয়ে, মধ্যরাতের এই উদযাপনে রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এক অন্যরকম আবেগ দেখাল অশোকনগরবাসী। এত এত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বুঝিয়ে দিল, দেশের ‘ক্যাপ্টেন’-এর প্রতি এই এলাকার মানুষের ভালোবাসার বাঁধন কতটা সুদৃঢ়।