কলকাতার জয়নাব সৈয়দ আদিবাসী অর্থনীতির জন্য ট্রাইফেডকে একটি গতিশীল সংস্থায় সংগঠিত করেছেন

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 12 h ago
জয়নাব সৈয়দ
জয়নাব সৈয়দ


শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ

আজ কলকাতার জয়নাব  সৈয়দ ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।তিনি ভারত সরকারের অধীন ট্রাইবাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ডেভেলপমেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (ট্রাইফেড)-এর কলকাতা আঞ্চলিক কার্যালয়ে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।এই পদটির মর্যাদা একজন উপ-সচিবের সমতুল্য। তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব ভারতে আদিবাসী কারিগর ও উৎপাদকদের তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, সরকারি জীবিকা নির্বাহ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার প্রচেষ্টা চলছে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, একজন অভিজ্ঞ ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস অফিসার হিসেবে জয়নাব সৈয়দদের নেতৃত্ব ট্রাইফেডের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করেছে। তাঁর উদ্যোগের মাধ্যমে আদিবাসী কারিগর, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র উৎপাদকদের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

 
এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক ক্ষমতায়নের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভূমিকার আড়ালে রয়েছে অধ্যবসায়, সংগ্রাম এবং ব্যর্থতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী।

 উত্তর কলকাতার চিৎপুরের বাসিন্দা জয়নাব সৈয়দ দেশের অন্যতম কঠিন একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজের কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারের পর্যায়ে তিনি ২৭৫-এর মধ্যে ২২০ নম্বর পেয়ে দেশব্যাপী সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
 

IRS জয়নাব সৈয়দ
 
চূড়ান্ত তালিকায় তিনি সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক ১০৭ অর্জন করেন। তবে, সাফল্যের পথটা মোটেও সহজ ছিল না। ২০১২ এবং ২০১৩ সালে তিনি একই পরীক্ষায় অংশ নিলেও প্রাথমিক পর্যায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অনেকেই হয়তো হতাশ হয়ে পড়তেন, কিন্তু জয়নাব হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না।

বরং, সে ব্যর্থতাকে একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং আরও বেশি মনোযোগ ও পরিকল্পনার সাথে প্রস্তুতি নিয়েছিল। ধৈর্য, ​​কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস তার সাফল্যের চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছিল। জয়নাব একজন অসাধারণ ছাত্রীও ছিল।
 
কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ডিগ্রি অর্জনের পর, তিনি দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি কলকাতার ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করতেন।
 
IRS জয়নাব সৈয়দ
 
 
ফলে, তাকে পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতিও সামলাতে হচ্ছিল। প্রস্তুতির সময় তিনি পড়াশোনায় ধারাবাহিকতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। তিনি প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন এবং সময় ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন।
 
তার মতে, যেকোনো বড় পরীক্ষায় সফলতার জন্য মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের সঠিক ভারসাম্য প্রয়োজন। পরিকল্পিত প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তাকে সাফল্যের পথে নিয়ে যায়।প্রায় ২৫ মিনিট স্থায়ী সাক্ষাৎকার চলাকালীন তার প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসও স্পষ্ট ছিল। সে ইংরেজি সাহিত্য, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এবং খুচরা বাণিজ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। সে তার শখ, পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কার্যকলাপ এবং স্কুল কাউন্সিলে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়েও আলোচনা করেছে।

তিনি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সাথে দিয়েছিলেন। এই সাফল্যের পর, তিনি ভারতীয় রাজস্ব পরিষেবায় যোগদান করেন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন।

বছরের পর বছর ধরে তিনি এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর কাজ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। কলকাতার এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে থেকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত জয়নাব সায়েদের এই যাত্রা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

তার গল্প প্রমাণ করে যে ব্যর্থতা কখনোই শেষ কথা নয়। দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে স্বপ্ন সত্যিই বাস্তবে পরিণত হতে পারে।আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে জয়নাব সৈয়দদের জীবনযাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং সমাজসেবার প্রতি অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।