পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন, ৫% ইনক্রিমেন্ট ও ডিএ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন, ৫% ইনক্রিমেন্ট ও ডিএ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন, ৫% ইনক্রিমেন্ট ও ডিএ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
 
কলকাতা

সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য সরকার। নবান্নের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে কমিশনের কাজের পরিধি ও দায়িত্বের পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, মহার্ঘ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ভাতা এবং অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
নতুন বেতন কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কর্মীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তিতে তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন স্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে।
 
ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দৈনিক পুষ্টির চাহিদা হিসেবে ৩,৪৯০ ক্যালোরি ধরা হয়েছে। আগের হিসাব অনুযায়ী এই পরিমাণ ছিল ২,৭০০ ক্যালোরি। ফলে নতুন বেতন কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
 
মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। ডিএ সংক্রান্ত ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ জারি করার সুপারিশ করা হবে কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, সন্তানদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভরতুকি-সহ বিভিন্ন ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পে কমিশনের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
 
অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রেও একাধিক দাবি ও প্রস্তাব বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউটেড পেনশন ১১ বছর পর পুনরুদ্ধার, অবসরের সময় জমা ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার বিষয়টি।
 
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন বেতন কমিশন ও ডিএ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে সরকারের প্রথম বাজেটেই সরকারি কর্মীদের জন্য একাধিক ঘোষণা করা হয়। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। বাজেটের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দ্রুত সপ্তম পে কমিশন গঠনের কথা জানান।
 
সেই ঘোষণার পর এবার কমিশনের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বা কাজের পরিধি ও দায়িত্বের খসড়া প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। সরকারি, সরকার-পোষিত এবং আধা-সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশন বৃদ্ধি এবং কর্মীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত নীতি নিয়েও সুপারিশ করবে কমিশন।
 
ডিএ ও ডিআর অর্থাৎ মহার্ঘ ভাতা এবং মহার্ঘ ত্রাণ বৃদ্ধির হার নির্ধারণের বিষয়টিও সপ্তম পে কমিশনের আওতায় রাখা হয়েছে। কমিশনকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
ফলে সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশে শেষ পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বেতন ও ভাতা কতটা বাড়ে, কেন্দ্রীয় কাঠামোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্য তৈরি হয় এবং অবসরকালীন সুবিধায় কী পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের।