যাদবপুর স্টেশনে এবার ‘মিনি মার্কেট’, দোকান-খাবারের স্টল থেকে পার্কিং—বদলে যাবে স্টেশনের চেহারা
কলকাতা:
যাত্রী পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও সুবিধাজনক করতে এবার বড়সড় পরিবর্তনের পথে যাদবপুর রেলস্টেশন। স্টেশন চত্বরে তৈরি হতে চলেছে একটি ‘মিনি মার্কেট’। সেখানে থাকবে বিভিন্ন ধরনের দোকান, খাবারের আউটলেট, যাত্রীদের জন্য শৌচাগার এবং পার্কিংয়ের সুবিধা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টেশনকে শুধু যাতায়াতের কেন্দ্র হিসেবে নয়, যাত্রীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর একটি সমন্বিত পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ট্রেনে ওঠানামার পাশাপাশি যাত্রীরা একই চত্বর থেকে কেনাকাটা, খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
যাদবপুর স্টেশন কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই স্টেশন চত্বরে আরও উন্নত পরিকাঠামো এবং যাত্রীবান্ধব পরিষেবার দাবি ছিল। নতুন মিনি মার্কেট চালু হলে সেই চাহিদার অনেকটাই পূরণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত মিনি মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের দোকানের পাশাপাশি খাবারের দোকান ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পরিষেবা থাকবে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য পৃথক রেস্টরুম ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও করা হবে। পাশাপাশি যানবাহন রাখার জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এই ধরনের বাণিজ্যিক ও যাত্রী পরিষেবা পরিকাঠামো তৈরি হলে যাত্রীদের স্টেশনে অপেক্ষার সময়ও আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে। একইসঙ্গে স্টেশন চত্বরে যাতায়াত এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনাও আরও সুসংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে যাত্রী পরিষেবা আধুনিকীকরণের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যাদবপুরের এই প্রকল্পও তারই অংশ।
তবে মিনি মার্কেটটি কবে থেকে পুরোপুরি চালু হবে, কতগুলি দোকান থাকবে এবং পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট পরিকাঠামো কী হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের পর আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে।
যাদবপুর স্টেশনে মিনি মার্কেট চালু হলে একদিকে যেমন যাত্রীদের দৈনন্দিন পরিষেবা পাওয়া সহজ হবে, অন্যদিকে স্টেশন চত্বরের সামগ্রিক চেহারাতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কলকাতার ব্যস্ত এই রেলস্টেশনটি তখন শুধুমাত্র ট্রেন ধরার জায়গা নয়, বরং কেনাকাটা, খাবার ও নাগরিক পরিষেবার একটি আধুনিক কেন্দ্র হিসেবেও নতুন পরিচয় পেতে পারে।