সন্ত্রাসবাদী হুমকির মধ্যে ফের একবার কাশ্মীরি হিন্দুদের উদ্বেগ ও বাস্তুচ্যুতির ক্ষত সামনে এল। সোমবার কাশ্মীরি হিন্দু বলিদান দিবস উপলক্ষে জম্মুতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপত্যকায় নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন পৃথক ‘হোমল্যান্ড’ এবং পুনর্বাসনের জন্য সময়বদ্ধ রোডম্যাপ তৈরির দাবি জানালেন কাশ্মীরি হিন্দুরা।
১৯৮৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর কাশ্মীরি হিন্দু নেতা, বিজেপির প্রবীণ নেতা ও আইনজীবী পণ্ডিত টিকা লাল টপলুকে হত্যা করে সন্ত্রাসবাদীরা। কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের উত্থান এবং কাশ্মীরি হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ঘটনা হিসেবে এই হত্যাকাণ্ডকে দেখা হয়।
বাস্তুহারা কাশ্মীরি হিন্দুদের সংগঠন পানুন কাশ্মীর জম্মুর পালোড়া এলাকায় বলিদান দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করে। টিকা লাল টপলু, সন্ত্রাসবাদে নিহত সাধারণ মানুষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের স্মরণে উপস্থিতরা হাতে কালো ফিতে বেঁধে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন। মাতৃভদ্রকালী মন্দির থেকে আনা পবিত্র ‘বীর জ্যোতি’ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
সভায় পানুন কাশ্মীরের চেয়ারম্যান টিটু গাঞ্জু এবং আহ্বায়ক ড. অগ্নিশেখর উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি হিন্দুদের নিরাপদ পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন পৃথক হোমল্যান্ডের দাবি ফের তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত এলাকায় আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ভারতপন্থী শক্তির হাতে থাকা উচিত।
১৯৯০ সালের বাস্তুচ্যুতি ও হিংসাকে আইনিভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রস্তাবিত জেনোসাইড বিল কার্যকর করার দাবিও জানানো হয়। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে ওই সময়ের ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পথ তৈরি হবে।
বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মাসিক আর্থিক সহায়তা ১৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে অবিলম্বে ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি যুবকদের কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরে নিয়মিত চাকরির সুযোগ দেওয়ারও দাবি ওঠে।
প্রধানমন্ত্রী রোজগার প্যাকেজের আওতায় উপত্যকায় কর্মরত কাশ্মীরি হিন্দু কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পানুন কাশ্মীরের নেতারা। টিটু গাঞ্জু বলেন, কর্মীদের নিয়মিত হুমকির বিষয়টি সরকারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কাশ্মীরি হিন্দুদের পুনর্বাসন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অজয় রায়না কাশ্মীরি হিন্দুদের পৃথক হোমল্যান্ডের দাবিকে জম্মুর পৃথক রাজ্যের মর্যাদার দাবির সঙ্গেও যুক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত কাশ্মীরি হিন্দুরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং নিজেদের পরিচয়, মর্যাদা ও শিকড়ে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প নেন। অনুষ্ঠানে বিহারী লাল কৌল ও সঞ্জয় রায়নাও বক্তব্য রাখেন।