“বিকল্প শক্তির উত্থান চাই”, মিম–জনতা উন্নয়ন জোট নিয়ে মুখ খুললেন হুমায়ুন কবীর

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Aparna Das • 16 h ago
হুমায়ুন কবীর
হুমায়ুন কবীর
 
দেবকিশোর চক্রবর্তী / মুর্শিদাবাদ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে মিম ও জনতা উন্নয়ন পার্টির জোটে। এই প্রেক্ষাপটে হুমায়ুন কবীর-এর সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে এল জোটের লক্ষ্য, কৌশল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
 
প্রশ্ন: মিমের সঙ্গে জোট, এই সিদ্ধান্ত কেন?
 
হুমায়ুন কবীর: দেখুন, আমরা অনেকদিন ধরেই একটা বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ার চেষ্টা করছি। আসাদউদ্দিন ওয়েসি-র নেতৃত্বে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) একই ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে। তাই আমরা একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই, যারা এতদিন রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত, তাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা।
 

প্রশ্ন: ১৮০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত?
 
হুমায়ুন কবীর: আমরা খুব হিসেব করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গত কয়েক বছরে তৃণমূল স্তরে সংগঠন তৈরি করেছে। আমাদের কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। ১৮০টি আসনে লড়াই মানে শুধু সংখ্যা নয়, এটা আমাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।
 
প্রশ্ন: আপনি নিজে রেজিনগর ও নওদা, দুটি কেন্দ্র থেকে লড়ছেন কেন?
 
হুমায়ুন কবীর: এই দুটি এলাকা আমার কাজের জায়গা। মানুষের সঙ্গে আমার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। আমি চাই, মানুষ যেন সরাসরি তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন। দুই জায়গা থেকেই লড়াই করা একটা বার্তা, আমি লড়াই থেকে পিছিয়ে যাই না।
 
প্রশ্ন: প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে…
 
হুমায়ুন কবীর: হ্যাঁ, আমরা ইতিমধ্যেই কিছু নাম ঘোষণা করেছি। যেমন,
 
* রেজিনগর ও নওদা: আমি নিজে
 
* ডোমকল: আব্দুল করিম শেখ
 
* জঙ্গিপুর: রহিম মোল্লা
 
* করিমপুর: সাইদুল ইসলাম
 
* চাপড়া: মিজানুর রহমান
 
* বহরমপুর: নাসিরুদ্দিন আহমেদ
 
* হরিহরপাড়া: আতাউর রহমান
 
এটা শুধু শুরু। খুব শিগগিরই বাকি আসনগুলির প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করা হবে।
 
প্রশ্ন: আপনারা কোন কোন ইস্যুকে সামনে রেখে ভোটে লড়বেন?
 
হুমায়ুন কবীর: আমাদের মূল ফোকাস তিনটি, গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা। আজ গ্রামে কাজ নেই, যুবকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। আমরা চাই বাস্তব উন্নয়ন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়।
 
প্রশ্ন: সমালোচকরা বলছেন, এই জোট সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করবে…
 
হুমায়ুন কবীর: এই যুক্তি পুরনো। আমরা কাউকে ভাগ করতে আসিনি, আমরা প্রতিনিধিত্ব দিতে এসেছি। মানুষ যদি মনে করেন আমরা তাদের কথা বলছি, তাহলে তারা আমাদের সমর্থন করবেন। গণতন্ত্রে বিকল্প থাকা জরুরি।
 
প্রশ্ন: ওয়েসির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
 
হুমায়ুন কবীর: খুবই ইতিবাচক। ওয়েসি সাহেব স্পষ্টভাষী নেতা। উনি চান গ্রাসরুট স্তরে কাজ হোক। আমাদের ভাবনার সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে।
 
প্রশ্ন: কোন কোন এলাকায় বেশি জোর দিচ্ছেন?
 
হুমায়ুন কবীর: আমরা মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এই জেলাগুলিতে বিশেষভাবে ফোকাস করছি। তবে শহুরে আসনগুলিও আমরা ছাড়ছি না। সর্বত্র আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
 
প্রশ্ন: বড় দলগুলোর সঙ্গে লড়াই কতটা কঠিন হবে?
 
হুমায়ুন কবীর: অবশ্যই কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়। মানুষ পরিবর্তন চাইলে সব সম্ভব। আমরা সেই পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি।
 
সাক্ষাৎকারের শেষে হুমায়ুন কবীর আত্মবিশ্বাসের সুরেই বলেন, “এই জোট শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা।”
 
রাজনৈতিক মহলের মতে, মিম–জনতা উন্নয়ন পার্টির এই জোট আগামী নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে নতুন এই সমীকরণ যে রাজ্যের রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট।