মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে বড় ধাক্কা? রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তুঙ্গে

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 10 h ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
 
নয়াদিল্লি/গুয়াহাটি:

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহের মধ্যেই বড় ধাক্কার মুখে পড়লেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব বুধবার তাঁর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে তাঁর বৈঠকের খবর সামনে আসতেই বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, গুয়াহাটিতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের বৈঠক হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে সুস্মিতা দেব বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই দিল্লিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায়। ফলে বিরোধী রাজনীতির অন্দরে নতুন সমীকরণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহেই তৃণমূলের আরেক রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় ইস্তফা দেন। রাজ্যসভা সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত সদস্য সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৮ জুন, ২০২৬ থেকে তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

ইস্তফার পর সুখেন্দু শেখর রায় সাংবাদিকদের বলেন,"আমি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেলের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার মেয়াদ ছিল, কিন্তু নীতিগত কারণে দলের সঙ্গে আর নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না।"

এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিধায়কদলের অভ্যন্তরেও নজিরবিহীন অস্থিরতার খবর সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, দলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সমর্থন না করে ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়ক বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেন। যদিও এই ঘটনাকে ঘিরে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

পরপর দুই রাজ্যসভার সদস্যের পদত্যাগ এবং দলীয় অন্দরের অসন্তোষের খবর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—লোকসভা নির্বাচনের আগে কি তৃণমূলের সংগঠনে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলছে?

এখন নজর সুস্মিতা দেবের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকে। তিনি সত্যিই বিজেপিতে যোগ দেন কি না, নাকি এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অন্য কোনো বার্তা দেন—সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।