কলকাতা:
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৭২ শতাংশ।৯২.৭২ ভোট পড়েছে, যা স্বাধীনতার পর রাজ্যে সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ১৬টি জেলায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টি আসনে ১৬৭ জন মহিলা-সহ মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে এটাই সর্বোচ্চ ভোটদানের হার।”নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৭২ শতাংশ।দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোটগণনা হবে ৪ মে।কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে রাজ্যে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার ছিল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, যা ছিল ৮৪.৭২ শতাংশ।
বৃহস্পতিবারের ভোটে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। মহিলা ভোটদানের হার ছিল ৯২.৬৯ শতাংশ, যেখানে পুরুষ ভোটদাতাদের হার ছিল ৯০.৯২ শতাংশ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটদানের হার ছিল ৫৬.৭৯ শতাংশ।আধিকারিকরা জানান, জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু ও বিবেক জোশী সব ভোটকেন্দ্রের লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন।
ভোটের হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কমিশন ভোটার-বান্ধব একাধিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ভোটার তথ্যপত্র, প্রতি বুথে ভোটারের সংখ্যা কমানো এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি সহায়তা।নির্বাচনী আধিকারিকরা জানান, কিছু বুথের তথ্য এখনও হালনাগাদ হচ্ছে এবং ডাক ভোট এখনও চূড়ান্ত গণনায় যোগ হয়নি, তাই এই সংখ্যা আপাতত প্রাথমিক।
পরে কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা যে প্রচেষ্টা নিয়েছিলাম, তাতে সন্তুষ্ট। উচ্চ ভোটদানের হারেই তার প্রতিফলন দেখা গেছে। উন্নতির সুযোগ সবসময়ই থাকে। সিইসি-ও জানিয়েছেন, ভোটাররা নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে ভোট দিয়েছেন বলে তিনি সন্তুষ্ট।”
বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনাগুলি নিয়ে আগরওয়াল বলেন, “আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে কোনও ঘটনাই বড় আকারের ছিল না। এগুলি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।”আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তিনি বলেন, এক অজ্ঞাত দুষ্কৃতী তাঁর গাড়ির পিছনের অংশে পাথর ছুড়ে মারে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আগরওয়াল আরও জানান, পরবর্তী দফার ভোটে, “বিশেষ করে কলকাতায়, একই রকম উচ্চ ভোটদানের হার আশা করছি।”তিনি বলেন, “দ্বিতীয় দফায় ভোটারদের আস্থা বাড়াতে অতিরিক্ত কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”