দেবকিশোর চক্রবর্তী
আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার রাতে দলের তরফে প্রকাশিত তালিকায় একাধিক চমক রয়েছে। রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার-কে উচ্চকক্ষে পাঠানোর সিদ্ধান্ত যেমন রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে, তেমনই প্রার্থী করা হয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়-কে। পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক জগত থেকেও চমক দিয়ে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী-কে প্রার্থী করেছে শাসকদল।
আগামী ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যসভা নির্বাচন। দেশের মোট ১০টি রাজ্যে ৩৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের রয়েছে পাঁচটি আসন। বর্তমান বিধানসভা অঙ্কের নিরিখে চারটি আসনে তৃণমূলের জয় কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। অপর একটি আসনে জয় পেতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রার্থী তালিকা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দল প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক, এই তিন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিতে চাইছে। বিশেষ করে রাজীব কুমারের নাম ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পদে থাকার অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতাকে এবার সংসদীয় রাজনীতিতে কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক দিন আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন রাজীব কুমার। সেই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে আনা হতে পারে। অনেকের মতে, এই মামলা শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং এর পেছনে রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্যসভায় তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে, বাবুল সুপ্রিয়র প্রার্থী হওয়া অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। একসময় বিজেপির সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকলেও পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেন তিনি। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং সাংসদ হিসেবে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা তৃণমূলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চমকপ্রদ সংযোজন হিসেবে কোয়েল মল্লিকের নাম সামনে এসেছে। যদিও তিনি সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তবু জনপ্রিয়তা এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবকে কাজে লাগাতে চাইছে দল। একইভাবে, মেনকা গুরুস্বামীর মতো একজন প্রখ্যাত আইনজীবীকে প্রার্থী করা দলীয় কৌশলের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে সংসদে আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়ে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের এই প্রার্থী তালিকা একদিকে যেমন চমকপূর্ণ, তেমনই কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই তালিকা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, দল ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে আরও শক্ত অবস্থান নিতে চাইছে। এখন দেখার, ভোটের ফলাফলে সেই কৌশল কতটা সফল হয়।