কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল Election Commission of India। রবিবার ভোটের সূচি ঘোষণা হওয়ার পরই কমিশন জানিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজ্যে পাঠানো হবে প্রায় সাড়ে ৩০০ জন পর্যবেক্ষক। এঁদের মধ্যে থাকবেন সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখভালের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী মাস অর্থাৎ এপ্রিলেই দু’দফায় অনুষ্ঠিত হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। ভোট ঘোষণার পরই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়াতে এই পর্যবেক্ষকদের দ্রুত রাজ্যে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ভোট ঘোষণার পরেই সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার কলকাতার সিইও দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
এবারের নির্বাচনে কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ২০২৬ সালের ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা। সেই লক্ষ্যেই নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রে কোনও রকম খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র এই ক্ষেত্রেই মোট ২৯৪ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন থাকবেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের ২৮টি পুলিশ জেলায় দু’জন করে পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। আবার ছ’টি পুলিশ কমিশনারেট এলাকাতেও থাকবেন দু’জন করে পর্যবেক্ষক।
শুধু তাই নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগানোর জন্য আরও কয়েকজন পর্যবেক্ষককে অতিরিক্তভাবে রাখা হচ্ছে। এছাড়াও নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলির আয়-ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখতে এবার বাড়ানো হয়েছে ব্যয় পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও। কমিশন সূত্রে খবর, এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন আয়-ব্যয় পর্যবেক্ষক রাজ্যে আসবেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, সে সময় রাজ্যে মোট ১৬০ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক ছিলেন। ফলে একজন আধিকারিককে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল। তবে এবার সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা পর্যবেক্ষক থাকলে নজরদারি আরও কার্যকর ও নিখুঁত হবে। একইভাবে গত নির্বাচনে রাজ্যে মোট ৩৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে এবং এলাকাভিত্তিক নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে কমিশন।
কমিশনের এই পরিকল্পনা থেকেই স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির মধ্যেই শুরু হতে চলেছে রাজ্যের ভোটের লড়াই।