নূরুল হক,আগরতলা ঃ
বাংলা বছরের শেষে ত্রিপুরার বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জমাতিয়া হদা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বাবা গড়িয়া মহাপূজা ও মহাউৎসব। বাঁশ কাঠ এবং জনজাতিদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত বাবা গড়িয়াকে তারা যথাযোগ্য মর্যাদায় পূজা করেন এবং নিজের এলাকাসহ দেশের জন্য মঙ্গল কামনা করেন। এবছর ত্রিপুরার উদয়পুর মহকুমার উদয়পুর মহকুমায় কিল্লা পিত্রাকামিতে জমাতিয়া হদা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বাবা গড়িয়া মহাপূজা ও মহাউৎসব।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মহাপূজার শুভ সূচনা হয়। জমাতিয়া সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতি-নীতি, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতির মিলন মেলা। এদিন সকাল থেকেই পিত্রাকামি এলাকায় ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পুজোর শুরুতেই পূজারীরা ঐতিহ্যবাহী নিয়ম মেনে বাবা গড়িয়ার আরাধনা করেন। ঢাক-ঢোল ও ধর্মীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে পরিবেশ হয়ে ওঠে ভক্তিময়।
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির পক্ষে জমাতিয়া হদা অকরা মনিন্দ্র মোহন জমাতিয়া বলেন ,আমাদের সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। দেশ ও সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় প্রতি বছর এই মহাপূজার আয়োজন করা হয়।তিনি আরও বলেন, এই সাতদিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হবে, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, বাবা গড়িয়া মহাপূজা জমাতিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই পুজোর মাধ্যমে সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সামগ্রিক ভাবে, কিল্লা পিত্রাকামির এই মহাপূজা ও উৎসব ঘিরে এলাকাজুড়ে এক আনন্দঘন ও ভক্তিময় পরিবেশ বিরাজ করছে। বর্তমানে এই সব অনুষ্ঠানে ধর্ম বর্ণের ঊর্ধ্বে পাহাড়ি বাঙালি সমস্ত অংশের লোকজন অংশগ্রহণ করেন। আগামী কয়েকদিন এই উৎসবকে কেন্দ্র করে আরও জনসমাগম বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।