উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন ও প্রধানমন্ত্রী মোদি বাবাসাহেব আম্বেদকরের ১৩৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানান
নয়াদিল্লি:
১৩৫তম আম্বেদকর জয়ন্তী উপলক্ষে মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বরে প্রেরণা স্থলে ভারতরত্ন ড. বি আর আম্বেদকরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ অন্যান্য নেতারাও বাবাসাহেবের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেদের এক সাথে দেখা যায়।এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, দেশগঠনে ড. আম্বেদকরের প্রচেষ্টা গভীরভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক।
তিনি লেখেন, “ড. বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই। দেশগঠনে তাঁর প্রচেষ্টা গভীরভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে ন্যায়ভিত্তিক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়তে অনুপ্রাণিত করে যাবে।”
এছাড়া আম্বেদকর জয়ন্তীর প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং ভারতীয় সংবিধানের প্রধান স্থপতিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, “ভারতীয় সংবিধানের প্রধান নির্মাতা এবং মহান সমাজসংস্কারক বাবাসাহেব ডক্টর ভীমরাও আম্বেদকরের জন্মবার্ষিকীতে আমি তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণাম জানাই।”
আম্বেদকরকে আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, গভীর চিন্তাবিদ, আইনবিশারদ এবং সমতাভিত্তিক সমাজব্যবস্থার জোরালো সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মুর্মু জাতি গঠন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁর আজীবন অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, “তিনি সমাজের বঞ্চিত ও দুর্বল শ্রেণির উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং তাঁদের পক্ষে ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন। তিনি শুধু বৈষম্য দূর করার পথই দেখাননি, ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকারকে শক্তিশালী করতেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। আম্বেদকর নারীদের শিক্ষা ও অধিকারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তাঁর বহুমুখী অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশসেবা ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিতে অনুপ্রাণিত করবে।”তিনি বলেন, “এই দিনে আমরা সকলে বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শকে জীবনে ধারণ করার এবং ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রগতিশীল দেশ গঠনে অবদান রাখার শপথ নিই।”
বি আর আম্বেদকর, যিনি স্নেহভরে ‘বাবাসাহেব’ নামে পরিচিত, ছিলেন ভারতীয় সংবিধানের প্রধান স্থপতি। তাই তাঁকে ‘ভারতীয় সংবিধানের জনক’ও বলা হয়। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম আইন ও বিচারমন্ত্রীও ছিলেন।
বাবাসাহেব মধ্যপ্রদেশের এক দরিদ্র দলিত মহার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সমাজের প্রান্তিক মানুষের সমঅধিকারের জন্য তিনি নিরলস সংগ্রাম করেন। পরে তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য তিনি ‘দলিত আইকন’ হিসেবে সম্মানিত হন।
তিনি ১৯৫৬ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রয়াত হন। ১৯৯০ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত করা হয়।