নদীভাঙন রুখতে এবার স্থায়ী সমাধানের পথে রাজ্য, অমিত শাহের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চাইলেন শুভেন্দু
কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে প্রতিবছর নদীভাঙনের কারণে তৈরি হওয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে পৃথকভাবে অর্থ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভারী বৃষ্টি এবং দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা ডিভিসি থেকে জল ছাড়ার জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা, জলমগ্নতা ও নদীভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মালদহের মানিকচক ও রতুয়া এলাকায় প্রতিবছরই নদীভাঙন ভয়াবহ আকার নেয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় শুধুমাত্র সাময়িক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “দুটি বিষয় আলাদা। একটি হল নদীভাঙন, বিশেষ করে মালদহের মানিকচক ও রতুয়া এলাকায় যে ভাঙন প্রতিবছর হয়। এই ভাঙন একটি বড় সমস্যা। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা কাজ করছি।”
মালদহের গঙ্গা ও ফুলহার নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে রতুয়া, মানিকচক ও কালিয়াচক এলাকার বহু মানুষ প্রতিবছর নদীভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এই সমস্যা মোকাবিলায় বিহার ও ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিকল্পনা তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য আইআইটি কানপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বড় আকারের নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে চলতি বছরে কেন্দ্রের পক্ষে চাওয়া পুরো অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের তরফে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে আরও অর্থের প্রয়োজন। সেই ঘাটতি মেটাতে দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল, রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অর্থ ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও অতিরিক্ত অর্থের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। একইসঙ্গে আইআইটি কানপুর এবং কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হবে।
বিহার ও ঝাড়খণ্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বৈঠক আয়োজনের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। কারণ নদীভাঙনের সমস্যা শুধু পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আন্তঃরাজ্য নদীগুলির গতিপথ ও জলপ্রবাহের সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি যুক্ত।
মুখ্যমন্ত্রীর আশা, গৃহীত পদক্ষেপগুলির প্রাথমিক ফলাফল আগামী এক বছরের মধ্যেই দেখা যেতে পারে। তবে নদীভাঙনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য রাখা হয়েছে আগামী দুই বছরের মধ্যে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মালদহের পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ অন্যান্য এলাকাতেও দীর্ঘমেয়াদে মানুষের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।