কলকাতা
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ভোট ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে তিনি তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) চলতি মাস থেকেই দেওয়া শুরু হবে। এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি ফিরে এসেছে কর্মচারীদের মধ্যে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, মা-মাটি-মানুষের সরকার সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে। রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, পাশাপাশি পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার সদস্যদের বকেয়া ডিএর এরিয়ার দেওয়া হবে। রাজ্যের অর্থদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ROPA ২০০৯ অনুসারে এই বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে এবং মার্চ মাস থেকেই সংশ্লিষ্টদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছিল। এই বিষয়ে আগেই রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল Calcutta High Court। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার মামলা করে Supreme Court of India-এ।
পরে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয় যে বকেয়া ডিএর অন্তত ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে এবং তার জন্য ছয় সপ্তাহ সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে অর্থ প্রদান সম্ভব হয়নি। এরপর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে অতিরিক্ত ছয় মাস সময় চাওয়া হয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ কোনও দয়া নয়, এটি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। আদালত নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ দু’দফায় পরিশোধ করতে হবে মে মাসের মধ্যে এবং প্রথম কিস্তি দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে।
এছাড়াও বাকি অর্থ কতটা এবং কত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি।
তবে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এতদিন ডিএ পাননি পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা। রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয়, প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি কর্মীর নথি যাচাই করতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের আগের বহু তথ্য এখনও ডিজিটাল আকারে নেই, বরং হাতে লেখা সার্ভিস বুক আকারে সংরক্ষিত রয়েছে। সেই নথিগুলি ডিজিটাইজ করার কাজ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ডিএ প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানানো হয়।
এছাড়াও প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়। এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে প্রশাসনিক আধিকারিকের ঘাটতির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয় আদালতে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। যদিও সেই ধর্মঘট খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এর মধ্যেই রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ চলতি মাসেই কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। ফলে দীর্ঘদিনের দাবি আংশিক পূরণ হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে।