ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ির দোকানে প্রধানমন্ত্রীর বিরতি, রাতারাতি ভাইরাল বিক্রেতা বিক্রম
ঝাড়গ্রাম,পশ্চিমবঙ্গ:
পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামের এক সাধারণ ঝালমুড়ির দোকান এখন জাতীয় আকর্ষণের কেন্দ্রে। নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ত সূচির মাঝেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হঠাৎ সেখানে থেমে ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনায় রাতারাতি বদলে গেছে দোকান মালিক বিক্রম কুমারের জীবন।
বিহারের গয়ার বাসিন্দা বিক্রম বর্তমানে ঝাড়গ্রামের রাজ কলেজ মোড়ের কাছে “চাভান লাল স্পেশাল ঝালমুড়ি (বিহারি বাবু)” নামে একটি ছোট দোকান চালান। রবিবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে জনসভা শেষে ডিএম হেলিপ্যাডের পথে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর হঠাৎ তাঁর দোকানের সামনে থামে। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে ঝালমুড়ির দাম জানতে চান, বিক্রমের নাম, বাবার নাম ও পড়াশোনা সম্পর্কেও খোঁজ নেন। এরপর নিজেই ঝালমুড়ি কিনে খান।
বিক্রম জানান, “মোদিজি এসেছিলেন, ঝালমুড়ি খেলেন, নাম জিজ্ঞেস করলেন, বাবার নাম জানতে চাইলেন। পড়াশোনার কথাও জানতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছি, নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি।”
এই ঘটনার পর থেকেই বিক্রমের দোকানে মানুষের ঢল নেমেছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ দোকানে ভিড় করছেন। কেউ ঝালমুড়ি কিনছেন, কেউ সেলফি তুলছেন, আবার অনেকে ভিডিও ও রিল তৈরি করছেন।
বিক্রম বলেন, “ফোন বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। এখনও ফ্লাইট মোডে আছে। সকাল থেকে সবাই আসছে, রিল বানাচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী পরে নিজের সামাজিক মাধ্যমেও ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন। জানা গেছে, তিনি ঝালমুড়ির দাম নিজেই পরিশোধ করেন, যা সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। প্রায় ১২ বছর আগে বিক্রমের পরিবার বিহার থেকে ঝাড়গ্রামে আসে। প্রথমে রাস্তার ধারে ছোট দোকান দিয়ে শুরু হলেও পরে সরকার বরাদ্দ ৭৭ ফুট জায়গায় স্থায়ীভাবে ব্যবসা শুরু করেন তিনি।
এই ছোট দোকানের আয়েই পরিবারটি ঝাড়গ্রামের বাছুরডোহা এলাকায় বাড়ি তৈরির কাজও শুরু করেছে। এখন সেই সাধারণ ঝালমুড়ির দোকানই যেন পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।