অযোধ্যা রামমন্দিরে অনুদান তছরুপের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন রাহুল-খাড়গে, স্বাধীন তদন্তের দাবি
নয়াদিল্লি:
অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান তছরুপের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁদের দাবি, কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
রবিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ চিঠিটি প্রকাশ করে মল্লিকার্জুন খাড়গে লেখেন, "শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেনের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে যৌথ চিঠি পাঠিয়েছি। লক্ষ লক্ষ ভক্ত তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ বিশ্বাস ও ভক্তিভরে দান করেছিলেন। সেই অনুদান চুরির ঘটনায় তাঁরা প্রতারিত বোধ করছেন।"
উল্লেখ্য, গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে রামমন্দিরে দান করা অর্থ তছরুপের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ট্রাস্টের দুই শীর্ষ আধিকারিক পদত্যাগ করেছেন।
২৫ জুন ট্রাস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং পরে আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে রাহুল গান্ধী ও খাড়গে উল্লেখ করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা সংসদে করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। যদিও ট্রাস্টের সদস্যদের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমেই হয়েছে।
চিঠিতে কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন, ট্রাস্টের সদস্যদের অধিকাংশেরই আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদকও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলে তাঁদের অভিযোগ।
চিঠিতে তাঁরা বলেন, "এত বড় অপরাধের পরেও আপনার নীরবতা গ্রহণযোগ্য নয়। জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা আপনার দায়িত্ব। আমরা অবিলম্বে ট্রাস্টের সমস্ত আর্থিক লেনদেন, নগদ অর্থ, সোনা, রুপো-সহ সমস্ত অনুদানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।"
একইসঙ্গে তাঁরা দাবি করেছেন, তদন্তের রিপোর্ট এবং ট্রাস্টের সমস্ত হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক, যাতে প্রতিটি ভক্ত জানতে পারেন তাঁদের দান কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, "যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের পদ বা প্রভাব নির্বিশেষে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আপনার সরকার এবং ট্রাস্টের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করছে এই বিষয়ে কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তার উপর। দেশের মানুষ সবকিছু লক্ষ্য করছেন।"
এদিকে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও এক্স-এ একই চিঠি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, "অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টকে ঘিরে 'চাঁদা চুরি, আস্থার সঙ্গে প্রতারণা'-র ঘটনায় লোকসভার দুই বিরোধী দলনেতার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখা যথার্থ পদক্ষেপ।"
রমেশ আরও বলেন, ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই ট্রাস্ট গঠনের ঘোষণা করেছিলেন এবং তার কৃতিত্ব নিয়েছিলেন। তাই এখন এই অভিযোগের মুখে প্রধানমন্ত্রীর নীরব থাকা উচিত নয়।