দেবকিশোর চক্রবর্তী
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান নতুন করে সাজাতে শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারিয়ে ২৯৩টির মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে জয় পাওয়া দল শনিবার রাতেই পরিষদীয় কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের ঘোষণা করল। বিরোধী দলনেতা হিসাবে নির্বাচিত হলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি উপবিরোধী দলনেতা করা হয়েছে দুই মহিলা বিধায়ক অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিধানসভায় মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফিরহাদ হাকিমকে।
শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল নিজেদের বিরোধী শিবিরের মুখ ঘোষণা করে স্পষ্ট বার্তা দিল, পরাজয়ের ধাক্কা সামলেও তারা বিধানসভায় শক্তিশালী বিরোধী ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মুখ। ২০২১ সালে ভবানীপুর থেকে জিতে পরে সেই আসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে খড়দহ উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান। এ বার বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় এলেন তিনি। নির্বাচনী বিপর্যয়ের আবহে শনিবার সমাজমাধ্যমে মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি লেখেন, “সঙ্গে ছিলাম, সঙ্গে আছি, সঙ্গে থাকব।”
ফিরহাদ হাকিমও দলের কঠিন সময়ে আস্থার জায়গা ধরে রাখলেন। কলকাতা বন্দর কেন্দ্র থেকে জয়ী এই বর্ষীয়ান নেতাকে মুখ্য সচেতক করে পরিষদীয় কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল দল। অন্যদিকে ধনেখালি থেকে জয়ী অসীমা পাত্র এবং চৌরঙ্গী কেন্দ্রের বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপবিরোধী দলনেতা করে মহিলা নেতৃত্বকেও সামনে আনার ইঙ্গিত দিল তৃণমূল।
এ বারের নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে রাজ্যে সরকার গড়েছে। ভোটের হিসেবে বিজেপি পেয়েছে ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট, তৃণমূলের ঝুলিতে ৪০.৮০ শতাংশ। কংগ্রেস, সিপিএম, আইএসএফ এবং এজেইউপি মিলিয়ে বাকি আসনগুলি ভাগ হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে তৃণমূল একদিকে যেমন অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখল, তেমনই নতুন পরিস্থিতিতে সংগঠনকে ধরে রাখার বার্তাও দিল। ক্ষমতা হারালেও বিধানসভায় বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক এবং সংগঠিত বিরোধী ভূমিকা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিল জোড়াফুল শিবির।