‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে বড় পরিকল্পনা, দেশের শক্তি ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন মোদি
নয়াদিল্লি:
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের শক্তি, সম্ভাবনা এবং তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন দেশের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
সম্প্রতি সরকারের ২৫ বছরের যাত্রার প্রসঙ্গেও নিজের দীর্ঘ জনজীবনের কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, এই পথচলা ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়, বরং দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের গল্প। ২০৪৭-এর লক্ষ্য পূরণে নতুন উদ্যমে কাজ করার বার্তাও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তি, শক্তি, পরিকাঠামো, উদ্ভাবন এবং যুবশক্তি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে সংস্কারের গতি আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ২০৪৭-এর ভারতের চাহিদা অনুযায়ী নীতি, ব্যবস্থা ও কাজের ধরনকে বদলাতে হবে।
শক্তিক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার উপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিষ্কার শক্তির ক্ষেত্রে ভারত ইতিমধ্যেই ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত ৫০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই অর্জন করেছে বলে সরকারি তথ্য অনুযায়ী জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দশগুণ করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও ভারতের বড় ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। ২০৪৭-এর মধ্যে ভারতকে বিশ্বের প্রথম সারির AI শক্তিগুলির অন্যতম করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে AI-কে কাজে লাগিয়ে নতুন সুযোগ তৈরি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মোদির বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে যুবসমাজের ভূমিকা। তাঁর মতে, দেশের তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার, শিল্প, কৃষক, যুবসমাজ এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।