শিলং:
পূর্ব জৈন্তিয়া হিলস জেলায় কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর পর দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা। শুক্রবার তিনি জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের দুই ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে এবং উদ্ধার, ত্রাণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা—যার মধ্যে রেঞ্জের আইজি—এবং খনি দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।সাংমা বলেন, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বেআইনি খনন কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আরও জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খননের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এখন বৈধ খনন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা আর মেনে নেওয়া যাবে না।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের নিকটাত্মীয়দের জন্য মাথাপিছু ৩ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ (এক্স-গ্রেশিয়া) ঘোষণা করেন।বৃহস্পতিবার পূর্ব জৈন্তিয়া হিলস জেলার প্রত্যন্ত থাংস্কু এলাকায় একটি বেআইনি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও কয়েকজন ভিতরে আটকে থাকতে পারেন। উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে।রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী সাংমার সঙ্গে কথা বলে উদ্ধারকাজে কেন্দ্রের তরফে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, মেঘালয় হাইকোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) মামলা গ্রহণ করেছে এবং পূর্ব জৈন্তিয়া হিলসের ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশ সুপারকে বেআইনি খননের সঙ্গে যুক্ত খনি মালিক ও পরিচালকদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত এই দুই আধিকারিককে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্যসহ সশরীরে হাজির হতে বলেছে।
এই ঘটনা রাজ্যে বেআইনি কয়লা খনন নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পরিবেশগত ক্ষতি ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে জাতীয় পরিবেশ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) মেঘালয়ে ‘র্যাট-হোল’ কয়লা খননসহ অন্যান্য অবৈজ্ঞানিক খনন পদ্ধতির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল এবং বেআইনিভাবে উত্তোলিত কয়লা পরিবহণেও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজ্যে একাধিক প্রাণঘাতী খনি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতেই খনন কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে। খনিশ্রমিকদের যথাযথ লাইসেন্স নিয়ে আইন মেনে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
র্যাট-হোল খননে সাধারণত ৩–৪ ফুট উঁচু সরু সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়, যেখানে একজন শ্রমিক কোনওরকমে ঢুকে কয়লা তুলতে পারে। এই অনুভূমিক সুড়ঙ্গগুলোকে ‘র্যাট-হোল’ বলা হয়, কারণ এতে এক জনের বেশি লোক ঢোকা প্রায় অসম্ভব।