নয়া দিল্লি
ওড়িশার কটকে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কটকের এসসিবি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালের জরুরি পরিষেবার আইসিইউ কক্ষে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। হাসপাতালের প্রথম তলায় প্রথমে আগুন লাগে। হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আগুন লাগার সময় হাসপাতালের আইসিইউতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ১০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে তাঁদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকেশ মহালিংয়ের সঙ্গে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি সকালে হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম X-এ লিখেছেন, “এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালের ১১ জন কর্মী আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, দমকল বিভাগের ডিজির নেতৃত্বে একটি দল ঘটনার উচ্চস্তরের তদন্ত শুরু করবে এবং সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগার সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রমেশ চন্দ্র পারিদা, দাসুর মুন্ডা, এম ডি নয়ুম, গৌরাং চন্দ্র বারিক, এস কে আব্দুল সাত্তার, মধুসূদন দালাই, কুরশান চন্দ্র বিশ্বাল, রবীন্দ্র দাস, শেরু পারিদা এবং মেনকা রাউত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগুন লাগার সময় আইসিইউতে মোট ২৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন, যার মধ্যে আগুনে দগ্ধ হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ওড়িশার এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম X-এ লিখেছেন, “কটকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”