মুসলিম সম্প্রদায় যেন কেবল ধর্মের মধ্যেই নিজেদের পরিচয় সীমাবদ্ধ না রাখে: NSA অজিত ডোভাল

Story by   Atir Khan | Posted by  Aparna Das • 11 h ago
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের একটি দৃশ্য
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের একটি দৃশ্য
 
আতির খান / নয়াদিল্লি

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের সময় তিনি দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সম্প্রদায়টির অংশগ্রহণ নিয়ে খোলামেলাভাবে মতামত ব্যক্ত করেন। ডোভাল উল্লেখ করেন যে, গত ১২ বছরে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম যুবক-যুবতী সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীতে যোগদান করেছেন।
 
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, ভারতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য নেই, এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল যুবক-যুবতীদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া।
 
ডোভাল উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার অধিকার সকলের আছে, কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ করা উচিত নয়। সরকারি চাকরির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যদি কোনও প্রার্থী সফল হতে না পারেন, তবে তার পিছনে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা-সহ নানা কারণ থাকতে পারে। একে শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য বলে মনে করা উচিত নয়।
 
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের একটি দৃশ্য
 
পরিচয়ের পরিসর বাড়ানো
 
বৈঠকের সময় ডোভাল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, তাঁদের বহুমাত্রিক পরিচয়কে কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা উচিত নয়।
 
তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির একাধিক স্তরের পরিচয় থাকে; তিনি একজন ভারতীয়ও, আবার নিজের পেশা বা কর্মক্ষেত্রের সঙ্গেও যুক্ত। যখন কোনও ব্যক্তি নিজেকে একমাত্র একটি পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন এবং সেটিকেই সর্বোচ্চ বলে মনে করেন, তখন তিনি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন অনুভব করতে শুরু করেন। তিনি বলেন, এর ফলে ভুক্তভোগী হওয়ার ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয় এবং তা এড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
 
ডোভাল একটি সুন্দর উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমাদের দেশ একটি বৃহৎ জাহাজের মতো, আর আমরা সকলে তার নাবিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা সবাই একই যাত্রায় এগিয়ে চলেছি; আমরা হয় একসঙ্গে জাহাজ চালাব, নয়তো একসঙ্গেই ডুবে যাব। তিনি পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সম্প্রদায়ের নেতারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন
 
সভায় নেতৃত্ব দেন শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী জাফর সোরেশওয়ালা। সেখানে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাইমা খাতুন, দিল্লি হজ কমিটির কৌসার জাহান, পদ্মশ্রী ড. জহির আই কাজী-সহ একাধিক বিশিষ্ট উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন। নাইমা খাতুন বলেন, সরকার মহিলা ক্ষমতায়নের উপর জোর দেওয়ায় তিনি এএমইউ (AMU)-এর প্রথম মহিলা উপাচার্য হতে পেরেছেন।
 
গুজরাটের Disturbed Areas Act-এর কারণে মুসলিম এলাকায় বাড়ি নির্মাণের সমস্যার বিষয়টি উত্থাপন করেন জাফর সোরেশওয়ালা। ড. জহির কাজী বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা নাসায় যেতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু FCRA-র নিয়ম উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে শিক্ষামূলক অনুদান পেতে বাধা সৃষ্টি করছে।
 
গুজরাটের উদ্যোক্তা ফারুক প্যাটেল নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁর বাবা একজন বাস কন্ডাক্টর ছিলেন, কিন্তু আজ তাঁর সংস্থায় ১৬০০ জন কাজ করছেন, যাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশই অমুসলিম। তিনি আরও বলেন, তাঁর ব্যবসায় সরকারের তরফে কোনও বাধা সৃষ্টি করা হয়নি।
 
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের একটি দৃশ্য

সামনে এগোনোর পথ
 
শেষে অজিত ডোভাল মুসলিম সমাজের সমৃদ্ধ ও সফল মানুষদের শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তাঁরা যেন স্কুল খোলেন এবং দরিদ্র শিশুদের জন্য বৃত্তি প্রদানের কর্মসূচি শুরু করেন। তিনি আরও বলেন, জনগোষ্ঠীগুলি যেন কেবল অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারের সামনে দৃঢ় প্রস্তাব তুলে ধরে। ডোভাল সকলকে আশ্বস্ত করেন যে সরকার সবাইকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিছু সদস্য ইসলামিক ব্যাংকিংকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যার মাধ্যমে অর্থনীতি উপকৃত হতে পারে।


শেহতীয়া খবৰ