পরিযায়ী শ্রমিক থেকে বিধানসভার টিকিট! হরিশ্চন্দ্রপুরের ‘গরিবের বন্ধু’ মতিবুর, প্রচারে সম্প্রতির ছোঁয়া
তরুণ নন্দী / কলকাতা
লড়াকু জীবন থেকে আজ সত্যিকারের জননেতা হয়ে উঠেছেন মতিবুর রহমান। আসলে হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমানের উত্থান সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে। তাকে দেখে বলাই যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় যেকোন সমীকরণের চেয়ে বড় হয়ে হয়ে দাঁড়ায় মানুষের জীবনের লড়াই আর আবেগ। মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দেখা গেল সেই আবেগেরই এক প্রতিফলন। টানা তিনবারের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর জায়গায় টিকিট পেয়েছেন সদ্য দলে আসা মতিবুর রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মতিবুরের গরীবের বন্ধু হয়ে ওঠা তকমাটা হয়ত ভোটের বাক্সে বাজিমাত করবে।
এলাকায় কান পাতলে শোনা যাবে, মতিবুর রহমানের জীবনের উত্তরণের পথটা রূপকথার গল্পের চেয়ে কম কিছু নয়। একসময় সংসার চালাতে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলন তিনি। আর আজকে সেই মানুষটিই মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার লড়াইয়ে ঘাসফুল শিবিরের তুরুপের তাস।
অভাবের সংসারে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে তিনি আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন। তবে বড়লোক হওয়ার পাশাপাশি তিনি কিন্তু বড়মনের মানুষ বলেই শোনা যায়। অনুগামী থেকে স্থানীয়রা বলেন, তিনি নিজের অর্জিত সম্পদের একাংশ বিলিয়ে দিয়েছেন সমাজের অবহেলিত মানুষের স্বার্থে। তাই তো হরিশচন্দ্রপুরের আপামর জনসাধারণের কাছে তিনি পরিচিত ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে।
হরিশ্চন্দ্রপুরের মতো মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রথম থেকে মতিবুর রহমানের জনসংযোগ আলাদা মাত্রা নিয়েছে। প্রচারে নেমে তিনি রীতিমত ঝড় তুলে দিয়েছেন। তিনি হেঁটে গেলে তাঁর পাশে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ যেন প্রচারে সম্প্রীতির ছবিকে ফুটিয়ে তুলছে। মেরুকরণের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নিজেকে মাটির মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন জনসংযোগ থেকে। প্রচারে বেরিয়ে গ্রামের অলিতে গলিতে দাঁড়িয়ে শুনছেন তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা। রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের সমাজসেবার ট্র্যাক রেকর্ড যেন মতিবুর রহমানকে রাজনৈতিক ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে চেনাচ্ছে।
প্রচার থেকে মতিবুর রহমান বলেন, নিজের মাটি থেকেই আমার পথচলা শুরু। ভূমিপুত্র হিসেবে জিতে এলে বিধানসভায় কি কি করবেন তার খসড়াও তিনি তুলে ধরেন। তিনি জানেন পরিযায়ী শ্রমিক হওয়ার যন্ত্রণা কী, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হয়ত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নতুন পথের সন্ধান দেবেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের নেতৃত্ব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে একজন ‘জনদরদী’ মুখকে বেছে নিয়েছে। কারণ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আর সরাসরি জনসংযোগই ভোটে জেতার আসল চাবিকাঠি। আর এই অংকে গেলেই মতিবুর রহমান অনেকটাই এগিয়ে। পরিযায়ী শ্রমিক থেকে এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। সমাজসেবার পথে হেঁটে জননেতা, মতিবুর রহমানের এই যাত্রাপথ বিধানসভা নির্বাচনে হরিশ্চন্দ্রপুরের ঘাসফুল শিবিরকে এক বাড়তি অক্সিজেন যোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, হরিশ্চন্দ্রপুরের এই ‘গরিবের বন্ধু’ ভোটের রেজাল্টে বাজিমাত করতে পারেন কিনা।