ভোটার তালিকায় নাম নেই, পরিবারের দাবি এসআইআর ‘আতঙ্কে’ প্রাণ গিয়েছে মগরাহাটের মাহমুদের
তরুণ নন্দী / কলকাতা
ভোট উৎসবের আগেই শোকের ছায়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটের গাজি পরিবারে। অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার তীব্র মানসিক চাপ আর ভিটেমাটি হারানোর এক অজানা আতঙ্কেই চলে গেলে ৪৬ বছর বয়সী মাহমুদ গাজির জীবন। পরিবারের অভিযোগের আঙুল এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার দিকেই উঠল।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা (n 24 pargans) জেলার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা এলাকার ১৫৮ নম্বর বুথের বাসিন্দা মাহমুদ গাজি। পরিবার সূত্রে খবর, নির্বাচন কমিশনের (ECI) প্রকাশিত ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়েছে মাহমুদ এবং তাঁর ছেলের। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও কেন নাম বাদ গেল, এই দুশ্চিন্তায় সে প্রায়ই মনমরা থাকল বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। পরিবারের দাবি, নাম তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে দফতরে দফতরে চক্কর কেটেছিলেন মাহমুদ। বিএলও-র কাছে থেকে নোটিস পেয়ে শুনানিতেও হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। মাহমুদের আশা ছিল, শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় হয়ত সে তার নামটা দেখতে পাবে। কিন্তু সেই তালিকা বের হওয়ার পর তিনি দেখেন সেখানেও তার নাম নেই। পরিবারের অভিযোগ, তালিকায় নাম না থাকার বিষয়টি মনে মনে মেনে নিতে পারেননি মাহমুদ। রাতেই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। শুক্রবার সকালে ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার।
বিগত কয়েক মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গে ধরে এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বড়রকম ভীতি তৈরি হয়েছে। বিচারাধীন তালিকা থেকেও লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার নিয়ে ঘুম উড়েছে সাধারণ মানুষের। তালিকা বের হতে দেখা গেছে বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক এলাকার মানুষের মধ্যে এই আতঙ্ক কার্যত অনেক গভীরে পৌঁছেছে। বাংলায় এসআইআর নিয়ে অসন্তোষ তীব্র হলেও নির্বাচন কমিশন একে একটি রুটিন প্রক্রিয়া বলে দাবি করছে। এসআইআর নিয়ে মাহমুদের মতো বহু পরিবারে ঘটেছে এমন ঘটনা। মাহমুদ গাজির মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই বিতর্ক চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। বহু মানুষের প্রশ্ন, নির্দিষ্ট করে চাওয়া কাগজপত্র জমা দিলেও কেন নাম উঠছে না?
অভিযোগ, কোনো স্বচ্ছ জবাব মিলছে না ট্রাইব্যুনাল বা নির্বাচনী দফতর থেকে। প্রতিবেশীদের প্রশ্ন, ভোটের তালিকায় নাম তুলতে নথি দেওয়ার পরও কার গাফিলতিতে মানুষের প্রাণ যাচ্ছে? কমিশন হয়তো দায় এড়াবে, আর তাই এক অসহায় পরিবারের এই হাহাকার উদাসীনতার আড়ালে একসময় চাপা পড়ে যাবে।