ডিপফেক বিতর্কে চাপে হুমায়ুন কবীর, তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ— “প্রমাণ দিন, নয়তো আইনি লড়াই”

Story by  Debkishor Chakraborty | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 16 h ago
 ডিপফেক বিতর্কে চাপে হুমায়ুন কবীর, তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ— “প্রমাণ দিন, নয়তো আইনি লড়াই”
ডিপফেক বিতর্কে চাপে হুমায়ুন কবীর, তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ— “প্রমাণ দিন, নয়তো আইনি লড়াই”

দেবকিশোর চক্রবর্তী 


রেজিনগরের বিতর্কিত রাজনীতিবিদ হুমায়ুন কবীর-কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, তিনি নাকি বিজেপি নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে আর্থিক চুক্তিতে যুক্ত হয়েছেন। এই ভিডিও ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
 

তবে সাংবাদিক বৈঠক করে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, ভিডিওটি সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি “ডিপফেক”, যার মাধ্যমে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।
নিজের বক্তব্যে কবীর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে আমার কণ্ঠস্বর ও চেহারা নকল করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরেই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।”
 
তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং কুনাল ঘোষ-এর নাম উল্লেখ করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তিনি ১০০০ কোটি টাকা নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটি টাকার লেনদেনেরও প্রমাণ যদি দিতে পারেন, তবে আমি যে কোনও শাস্তি মেনে নেব। কিন্তু প্রমাণ না দিতে পারলে এই অপপ্রচারের জন্য আইনি পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
 
এই ঘটনায় তিনি ইতিমধ্যেই Election Commission of India-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান। পাশাপাশি যারা এই ভিডিও তৈরি ও প্রচারে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার কথাও ঘোষণা করেছেন।হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, এর আগেও রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কোণঠাসা করতে তাঁর বাড়ি ও পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে মিথ্যা আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে দমানোর জন্যই এই নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের ভিডিও এবং পাল্টা অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।
 
প্রযুক্তির যুগে ডিপফেক ভিডিওর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-নির্ভর এই ধরনের ভিডিও সাধারণ মানুষের পক্ষে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা কঠিন করে তুলছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।সমস্ত বিতর্কের মাঝেই হুমায়ুন কবীর নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর শেষ বার্তা, “মিথ্যা অপপ্রচার করে আমাকে দমানো যাবে না। শেষ কথা বলবে বাংলার মানুষই, ভোটের মাধ্যমে।”
 
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে— ভিডিওটির সত্যতা প্রমাণিত হয় কিনা, এবং আইনি লড়াই কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।