মা-বোনেদের সম্মানই দেশের সম্মান! নারী ক্ষমতায়নের নয়া অধ্যায় শুরুর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
নয়াদিল্লি ঃ
নারী ক্ষমতায়নের পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর আগে তিনি একে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে লেখেন, “মা এবং বোনেদের সম্মান জানালেই দেশকে সম্মান জানানো হয়। এই ভাবনাকে পাথেয় করেই আমরা এগিয়ে চলেছি।” তবে নারী শক্তির বন্দনার পাশাপাশি আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি।
এবারের বর্ধিত বাজেট অধিবেশনে কেন্দ্র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করতে চলেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত হলো লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাবিত বিল (আসন পুনর্বিন্যাস)। এছাড়াও রয়েছে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (মহিলা সংরক্ষণ) এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। এই বিলগুলি পাশ হলে লোকসভার এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে।
২০২৩ সালে পাশ হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এ বলা হয়েছিল, জনগণনার পরেই আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হবে। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্র সেই জনগণনার অপেক্ষা না করেই আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণকে একই সূত্রে গেঁথে বিল আনায় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল ও ডিএমকে-সহ বিরোধী দলগুলি। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, “এটি বিজেপির একটি বিপজ্জনক পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য ২০২৯ সালের নির্বাচনে নিজেদের সুবিধামতো জালিয়াতি করা।” তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন বিলের খসড়া পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বুধবারই দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিনিধিরা মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে বৈঠকে বসেন। বিরোধীদের দাবি, আসন পুনর্বিন্যাসের আড়ালে কেন্দ্র রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে চাইছে। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বিরোধীদের গুজব ছড়ানো উচিত নয়। একে অজুহাত করে মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করা ঠিক নয়।” সব মিলিয়ে নারী ক্ষমতায়নের এই বার্তায় এখন শাসক-বিরোধী সংঘাত চরমে।