জাত-পাত ভুলে বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানের উঠোনে হিন্দু-মুসলিম মায়ের ভিড়! ডোমকলে সম্প্রীতির নয়া 'অন্নপূর্ণা রেকর্ড'
তরুণ নন্দী / কলকাতা
রাজনৈতিক ভেদাভেদ নেই এখানে। উল্টে জনসেবার এক অনন্য নজির দেখল মুর্শিদাবাদের ডোমকল। সবচেয়ে বেশি চর্চিত 'অন্নপূর্ণা যোজনা'-র ফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাওয়ার পরই এক অন্য ছবির সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা। ডোমকলের সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানার বাড়িতে উপচে পড়ল হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে শত শত মহিলার ভিড়।
কোনো দলীয় কার্যালয় বা প্রশাসনিক ক্যাম্প থেকে নয় স্বয়ং বিধায়কের বাড়ির বারান্দা হয়ে গেল ফর্ম ফিল-আপের সেন্টার। রাজ্যের একমাত্র বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান নিজের হাতে এলাকার মা-বোনেদের ফর্ম পূরণ করে দিয়ে প্রকৃত 'জননেতা'-র পরিচয় দিলেন।
দিনকয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করার সময় দলমত নির্বিশেষে রাজ্যের সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের একটি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, সাধারণ মহিলাদের সুবিধার্থে ফর্ম পূরণ সংক্রান্ত যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে জনপ্রতিনিধিরা যেন সরাসরি সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করেন। এবার যেন সেই বার্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে ডোমকলে দেখা গেল এক সুন্দর সমাধান।
শনিবার সকাল হতেই দূর-দূরান্ত থেকে আসা মহিলারা বিধায়কের বাড়ির সামনে লাইন দিতে শুরু করে দেন। রবিরারও দেখা গেল একই ছবি। রাজনৈতিক রঙকে একপাশে সরিয়ে রেখে বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা নিজে বারান্দায় বসে এলাকার উপভোক্তাদের ফর্ম তা পূরণে হাত লাগিয়েছেন। বাম বিধায়ক সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, আপনাদের কোনো রকম গুজবে কান দেওয়ার দরকার নেই। সরকারি নির্দেশিকা ভালো করে পড়ে নিন আর সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম জমা করুন।
তিনি আরও জানান, এখানে কোনো রাজনীতির জায়গা নেই। এলাকার প্রতিটি যোগ্য ও প্রকৃত প্রাপক যাতে সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
মুস্তাফিজুর রহমান রানার এই সদিচ্ছায় ডোমকলের সাধারণ মহিলাদের মধ্যেও ব্যাপক স্বস্তি ফিরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোমকল প্রমাণ করল, জনস্বার্থের জন্য রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করাই একজন জননেতার কর্তব্য। বাম বিধায়কের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা আসলে রাজনৈতিক ময়দানে এক অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।