দেগঙ্গার রাজনীতির ‘অক্সিজেন’ থেকে আইএসএফ-এর তুরুপের তাস! কে এই মফিদুল হক সাহাজি যার জনপ্রিয়তায় কাঁপছে তৃণমূল?

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
দেগঙ্গার রাজনীতির ‘অক্সিজেন’ থেকে আইএসএফ-এর তুরুপের তাস! কে এই মফিদুল হক সাহাজি যার জনপ্রিয়তায় কাঁপছে তৃণমূল?
দেগঙ্গার রাজনীতির ‘অক্সিজেন’ থেকে আইএসএফ-এর তুরুপের তাস! কে এই মফিদুল হক সাহাজি যার জনপ্রিয়তায় কাঁপছে তৃণমূল?
 
 
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ

দেগঙ্গা বিধানসভা নিয়ে এখন নানা সমীকরণে ব্যস্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, এই কেন্দ্রে বর্তমানে রাজনীতির অঙ্ক আমূল বদলে দিয়েছেন মফিদুল হক সাহাজি। যিনি এলাকায় মিন্টু সাহাজি নামেই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এলাকায় কান পাতলে এই মানুষটির ব্যবহার ও রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে অনেক কথাই শোনা যায়।  তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে মফিদুল হক সাহাজি ছিলেন দলের প্রধান স্তম্ভ। টিকিট বন্টনের পর থেকেই তৃণমূলের প্রতি মোহভঙ্গ হয়ে  তিনি ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টে (ISF) যোগ দিয়ে দেগঙ্গায় শাসক শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিন্টু সাহাজির দলবদল মানেই দেগঙ্গার রাজনৈতিক সমীকরণে এক বিশাল মহীরুহের স্থান পরিবর্তন।
মিন্টু সাহাজির উত্থান হঠাৎ করে নয়। বলা ভালো, এই মানুষটির এত জনপ্রিয়তা আসলে দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল। জানা যায়, ১৯৮১ সালে জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক হাতেখড়ি। কংগ্রেসে থাকাকালীন ১৯৯৩ সালে পঞ্চায়েত সদস্য হন। ১৯৯৮ সালে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে বামফ্রন্টের রমরমা সময়ে ১৯৯৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। একবাক্যে সকলেই বলেন, শাসনের দাপুটে বাম নেতা মজিদ মাস্টারের ত্রাসের রাজত্বেও বুক চিতিয়ে লড়াই করে এলাকায় তৃণমূলকে জায়গা করে দিয়েছিলেন এই মিন্টু সাহাজিই। 
 
 
নিবাচনী  প্রচারে নওসাদ  সিদ্দিকী
 
তাঁর এই লড়াইয়ের পুরস্কার হিসেবেই তিনি বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। ২০০৩ সালে তিনি ছিলেন পঞ্চায়েত উপপ্রধান। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ব্লক সভাপতি। ২০১৮-তে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। এরপর ২০২৩ থেকে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এতকিছুর পরেও বিধানসভার টিকিট মেলেনি। তারপরই কার্যত দলত্যাগ করে আইএসএফে জয়েন করে তৃণমূলের প্রতিদ্বন্ধী হয়ে উঠেছেন। তিনি মনে করছেন দেগঙ্গায় তাঁর অতীতের কর্মযজ্ঞ তাঁকে জয়ের দৌড় গোঁড়ায় পৌঁছে দেবে। ভোট বিশ্লেষকদের মতে, মিন্টু সাহাজির ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসের পেছনে কাজ করছে তাঁর উজ্জ্বল ভাবমূর্তি আর প্রখর জনসংযোগ। তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনে যখন বহু নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেখানে মিন্টু সাহাজি নিজেকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ‘ক্লিন ইমেজ’ নেতা হিসেবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। 
 
 
মিন্টু সাহাজির পাশে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের প্রধান নওসাদ  সিদ্দিকী
 
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবার দেগঙ্গায় প্রার্থী করেছে আনিসুর রহমান বিদেশকে। যিনি রেশন দুর্নীতির অভিযোগে সাত মাস জেল খেটেছেন। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলের মধ্যেও চলেছে নানা চর্চা। মিন্টু সাহাজি যে আত্মবিশ্বাসে বুক বাঁধছেন, তার পিছনে রয়েছে মানুষের প্রতি তাঁর আজীবনের দায়বদ্ধতা। পাশাপাশি এটাও বলা যায়, ফুরফুরা শরীফের পীরজাদাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আইএসএফ (ISF)-এর হয়ে তাঁর ময়দানে নামা দেগঙ্গার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।
 
 
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় বলিয়ান হওয়ার পাশাপাশি ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে সাধারণ মানুষের বিপুল সমর্থন মিন্টু সাহাজিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। দেগঙ্গার আমজনতার কাছে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক লড়াকু সৈনিক। এই বলিষ্ঠ জননেতার নেতৃত্ব আগামী নির্বাচনে দেগঙ্গায় আইএসএফ-কে নতুন করে অক্সিজেন জোগাবে কিনা তা সময়ই বলবে।