নয়াদিল্লি:
মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। বুধবার, ৭ অক্টোবর, রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নির্ধারণ কমিটি (MPC)। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম রেপো রেটে বৃদ্ধি। একই সঙ্গে নীতি-অবস্থান ‘নিউট্রাল’ থেকে বদলে করা হয়েছে ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটনিং’।
রেপো রেট বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকের রেপো-লিঙ্কড ঋণে। ফলে গৃহঋণ, গাড়ি ঋণ-সহ বিভিন্ন ভাসমান সুদের ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার এবং EMI বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি বড় ব্যাংক তাদের রেপো-লিঙ্কড লেন্ডিং রেট বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, আমানতকারীরা কিছু ক্ষেত্রে ফিক্সড ডিপোজিটে তুলনামূলক বেশি সুদের সুবিধা পেতে পারেন।
মূল্যবৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান চাপই RBI-এর এই সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান কারণ। অগস্টে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৮২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা RBI-এর ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দামের চাপ, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল বর্ষার প্রভাব মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের MPC সর্বসম্মতভাবে রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে FY27-এর গড় খুচরো মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫.২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মূল্যবৃদ্ধি ৪.৯ শতাংশ, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ৬ শতাংশ এবং চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ৫.৭ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে RBI।
শুধু রেপো রেট বাড়ানোই নয়, ভবিষ্যৎ সুদনীতিতেও কড়া বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটনিং’ অবস্থানের অর্থ হল, আপাতত সুদ কমানোর সম্ভাবনা কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। আগামী দিনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আরও সুদ বাড়ানো অথবা একই জায়গায় ধরে রাখার পথ খোলা থাকছে।
তবে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনীতির বৃদ্ধির দিকটিও নজরে রেখেছে RBI। চলতি অর্থবর্ষে ভারতের GDP বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি বজায় রাখারও চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ফলে উৎসবের মরশুমে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের সামনে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। বিশেষ করে রেপো-লিঙ্কড হোম ও কার লোনের ক্ষেত্রে সুদ ও EMI কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলির ঋণের সুদের হার পুনর্নির্ধারণের উপর।