রমজান শেষে শাওয়াল মাসে ঈদের এক ফালি চাঁদ আকাশে ভেসে উঠলেও এবার সেই ঈদের চাঁদে আনন্দের হাসি দেখতে পাননি ত্রিপুরার বক্সনগর পুটিয়া গ্রামের লোকজন। ঈদের প্রাক মুহূর্তে রমজানের ২৮ তম রোজার দিন ছত্তিশগড়ে কর্মস্থলে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন পুটিয়া গ্রামের সন্তান বিএসএফ জওয়ান ওয়াসিম মিয়া।
এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তার পরিবারসহ এলাকাতে ঈদের আনন্দের পরিবর্তে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছিল। শনিবার ঈদের দিনে শহীদ জোয়ান ওয়াসিম মিয়ার মরদেহ বিমান পথে পথে আগরতলা এবং পরে বক্সনগর পুটিয়া গ্রামে পৌঁছায়। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিএসএফ জোয়ানরা শহীদের মরদেহ তার গ্রামের কবরস্থানে নিয়ে যান। শহীদকে শ্রদ্ধা জানাতে রাস্তার দু'ধারে ভিড় ছিল সাধারণ নাগরিকদের। বক্সনগর পুটিয়া স্কুল মাঠে মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর্ব চলে। সেখানে ওয়াসিম মিয়ার পরিবারসহ এলাকার লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঈদের সমস্ত হাসি আনন্দ হাড়িয়ে যায় কান্নার রোলে। সেখানে উপস্থিত থাকে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ৪৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ান বিএসএফের সহকারি কমান্ডার্ড আমন যাদব। ছিলেন এলাকার বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন সহ অসংখ্য মানুষজন।সবার চোখে ছিল অশ্রু, হৃদয়ে গর্ব ও বেদনার মিশ্র অনুভূতি।রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ জওয়ানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
“ভারত মাতার জয়” ও “শহীদ ওয়াসিম মিয়া অমর রহে” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পরবর্তীতে শহীদের মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ইসলামিক রীতি মেনে কবরস্থ করা হয়। কবরস্থ করার আগে বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সালামি প্রদান করা হয় এবং জাতীয় পতাকা তাঁর স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ, তবে সেই সঙ্গে ছিল গর্ব,ঘরের ছেলের দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার মানসিক উপলব্ধি।
শহীদ ওয়াসিম মিয়া ২০০৪ সালে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী তথা বিএসএফের ১৩৩ নং ব্যাটেলিয়ানে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২২ বছরের কর্মজীবন শেষে বৃহস্পতিবার তিনি কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১১টা ৫ মিনিটে ছত্তিশগড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
শনিবার পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের পবিত্র দিনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী এবং দুই কন্যা সন্তান।বক্সনগরবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে এই বীর সন্তানের আত্মত্যাগ ।