ভোট চুরির অভিযোগে দিল্লিতে CJP-র বিক্ষোভ, আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী; নিরাপত্তায় কড়াকড়ি রাজধানীতে
নয়াদিল্লি
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ভোট চুরির অভিযোগ তুলে ‘যন্তরমন্তর চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তেলাপোকা জনতা পার্টি (CJP)। এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে আম আদমি পার্টি, বাম দলগুলি এবং তৃণমূল কংগ্রেস। বিক্ষোভের দিন সকালেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করার খবর সামনে এসেছে। তবে তাঁকে আটকের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সূত্রের খবর, শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে ধ্রুব রাঠীর বাড়িতে হানা দেয় দিল্লি পুলিশের একটি দল। সকাল ৭টা ৪৮ মিনিট নাগাদ তাঁকে বাড়ি থেকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর বাড়ির বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশকর্মী জড়ো হয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে। CJP-র ডাকা বিক্ষোভে যোগ দিতে রাঠী দিল্লিতে এসেছিলেন বলে সূত্রের খবর।
বিক্ষোভ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাঠী। তাঁর দাবি, একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে, ট্রেন ও বাস চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের প্রতিবাদের কারণে তারা প্রায় দিল্লিকে অবরুদ্ধ করে ফেলছে।” যদিও পরিবহণ পরিষেবা বন্ধ বা বাতিলের বিষয়ে প্রশাসনের নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তথ্য যাচাই করা জরুরি।
CJP-র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির সীমান্ত, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রশাসনিক বিধিনিষেধের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, কর্তব্যপথ সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের খবরও সামনে এসেছে। তবে বিধিনিষেধের সঠিক পরিধি ও সময়সীমা সরকারি নির্দেশিকা থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
১০ অক্টোবরের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে ৭৫টি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এবং ১৭৯টি লোকাল ট্রেন-সহ মোট ২৫৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে দুপুর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার কথাও বলা হয়েছে। এই তথ্যগুলি রেল ও মেট্রো কর্তৃপক্ষের সরকারি বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ, পরিষেবা বন্ধের খবরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্টেশন, রুট এবং সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিক্ষোভের পরিস্থিতি সামাল দিতে উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার উপরও জোর দিয়েছে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, নয়াদিল্লি জেলার সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাযুক্ত ৩০০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার আধিকারিকদের জন্য বডি ক্যামেরার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঘটনাপ্রবাহ নথিবদ্ধ করতে প্রায় ১০০ জন ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরীক্ষা ও ক্লাসের সময়সূচিতে পরিবর্তনের খবরও সামনে এসেছে, যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী তা যাচাই করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং CJP-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রস্তুতি, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও পরিবহণে বিধিনিষেধ, দুইয়ের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর জনজীবনে। ধ্রুব রাঠীকে আটকের ঘটনা সেই পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।