মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিনে জুবিন গার্গকে আবেগে স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ
মাত্র দু’মাস আগে অকালমৃত্যু ছিনিয়ে নিয়েছে এক বহুমুখী সঙ্গীত প্রতিভাকে। আর তাই বছর ঘুরে জন্মদিন এসে গেলেও উদযাপনের কোনও আলোর রেশ নেই। বরং আরও গভীর হয়েছে শূন্যতা—দেশজুড়ে কোটি অনুরাগীর হৃদয়ে। জন্মদিনে সেই শূন্যতার কথাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে প্রয়াত শিল্পী জুবিন গার্গকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করলেন তিনি।
অসমের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী, জাতীয় সংগীতমঞ্চের উজ্জ্বল মুখ জুবিন গার্গ গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন। মাত্র ৫২ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া সংগীতজগতে গভীর শোকের ঢেউ তোলে। তবে মৃত্যুর নেপথ্যকে ঘিরে এখনও প্রশ্নের শেষ হয়নি—নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কিছু? তা নিয়ে তদন্ত, আলোচনা, সন্দেহ সবই চলছে। কিন্তু বিতর্কের বাইরে প্রশ্নহীনভাবে যে সত্যটি স্পষ্ট, তা হল—জুবিনের প্রয়াণ ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক বিশাল ক্ষতি।
তাঁর মৃত্যুর দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ভাই’ সম্বোধন করে শোকজড়িত বার্তা জানিয়েছিলেন। দু’মাস পর তাঁর জন্মদিনেও তাঁকে স্মরণ করতে ভোলেননি মুখ্যমন্ত্রী। জন্মদিনের সকালে পোস্ট করা সংক্ষিপ্ত বার্তায় মিশে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও হারানোর বেদনা। মমতার ভাষায়, “বিখ্যাত বহুমুখী সঙ্গীত প্রতিভা জুবিন গার্গকে তাঁর জন্মদিনে স্মরণ করছি। তাঁর সুর সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।”
আসলে জুবিন গার্গ এমনই শিল্পী ছিলেন যাঁর শিল্প, জনপ্রিয়তা এবং সৃষ্টিশীলতা কোনও ভৌগোলিক সীমায় আবদ্ধ ছিল না। অসমিয়া, হিন্দি, বাংলা—বিভিন্ন ভাষায় তাঁর গাওয়া গান দেশের নানা প্রান্তে মানুষকে মুগ্ধ করেছে। সুরকার, গায়ক, অভিনেতা, চলচ্চিত্রকার—প্রতিটি ভূমিকায় তিনি নিজস্ব স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর কণ্ঠের যাদু যেমন ছিল আলাদা, তেমনই ছিল মাটির গন্ধমাখা ব্যক্তিত্ব, যা তাঁকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।
মৃত্যুর পর এই প্রথম জন্মদিনে তিনি নেই—কিন্তু তাঁর সঙ্গীত, তাঁর সুরযাত্রা আজও জীবন্ত। মমতার বার্তা যেন সেই সত্যটিকেই আবার সামনে এনে দিল—শিল্পী চলে গেলেও শিল্পের মৃত্যু হয় না। বরং সৃষ্টির ভিতর দিয়ে তিনি আরও দূর, আরও গভীরভাবে মানুষের হৃদয়ে থেকে যান।
অসমের ভূমিপুত্র, ভারতের সংগীতজগতে এক বিস্ময় প্রতিভা—জুবিন গার্গ আজও সেই ভাবেই স্মরণীয়। জন্মদিনে তাঁর প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধা যেন অনুরাগীদের অনুভূতিকেও প্রতিনিধিত্ব করল। মৃত্যুর পরও তাঁর সুরের পথচলা থেমে নেই—থেমে নেই ভালোবাসার জোয়ার। তিনি রয়ে গেছেন মানুষের গানে, স্মৃতিতে, শ্রদ্ধায়—চিরদিনের জন্য।