বাগদায় ননদ বনাম বৌদির হাইভোল্টেজ লড়াই! মমতাবালার মেয়ে বনাম শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রীর লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী?
তরুণ নন্দী / কলকাতা
বাংলার রাজনীতিতে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি মানেই যেন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের তুরুপের তাস। ২০২৪ সালের উপনির্বাচনের স্মৃতি এখনও ফিকে হয়নি তারমধ্যেই ফের খবরের শিরোনামে বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র। এবার লড়াইটা পৌঁছে গিয়েছে মতুয়াদের পীঠস্থান ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলে। নির্বাচনের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ ননদ বনাম বৌদি। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বাজি সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের কন্যা মধুপর্ণা ঠাকুর, অন্যদিকে বিজেপির তুরুপের তাস সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর।
বাগদার মাটিতে এবার রাজনীতির লড়াই হচ্ছে একটু অন্যরকম। তৃণমূলের মধুপর্ণা ঠাকুর গত উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও নজর কেড়েছে সীমান্তবর্তী এলাকা বাগদার মানুষের কাছে। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী হলেও বিজেপির দিল্লির দরবার থেকে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল, সর্বত্রই তাঁর বিচরণ রয়েছে। পারিবারিক সম্পর্কের বিচারে মধুপর্ণা সম্পর্কে সোমার ননদ। তবে দুই পরিবারের তিক্ত সম্পর্ক কারও অজানা নয়। এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনে রাজনৈতিক ময়দানে দুজনেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন যুদ্ধ জয় করতে। তাঁদের বক্তব্য, পরিবার পরিবারের জায়গায়, লড়াই হবে রাজনীতির ময়দানে।
তবে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা বাগদায় কার পাল্লা ভারী? বাগদার জনবিন্যাস ও সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেই বোঝা সম্ভব জল কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে।তৃণমূলের (TMC) প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুরের প্লাস পয়েন্ট বিগত দিনের জয়ের রেকর্ড তাঁর পক্ষে। মমতাবালা ঠাকুরের সমর্থন তো রয়েছেই সঙ্গে বর্তমান বিধায়ক হওয়ার সুবাদে সাংগঠনিক শক্তি তাঁর বড় হাতিয়ার।
উল্টোদিকে বিজেপির (BJP) বাজি সোমা ঠাকুর। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাগদায় মোদী ও শান্তনু ঠাকুরের ব্যক্তিগত প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া তিনি।
আসলে দুই প্রার্থীরই মতুয়া সম্প্রদায়ের মন জয় করে লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে চান। তবে এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। ভোটার তালিকা (SIR) থেকে বহু মতুয়ার নাম বাদ পড়া বা পরিচয়পত্রের জটিলতা নিয়ে মতুয়াদের একাংশের মধ্যে রয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, এসআইআরের নামে নাম বাদ দিয়েছে বিজেপি। তার উপর মতুয়াদের নাগরিকত্বের টোপ দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। পাল্টা সোমা ঠাকুরের দাবি, বিজেপিই মতুয়াদের প্রকৃত রক্ষাকর্তা। আর বাগদার মাটি বিজেপিরই গড়, তাই জিত তাঁরই হবে।
ননদ-বৌদির লড়াইটা এখন আর শুধু তৃণমূল বনাম বিজেপির নয় অস্তিত্বের লড়াই। তাই প্রশ্ন উঠছে, বাগদার ভোটবাক্সে এবার কে বেশি ছাপ ফেলবেন? মধুপর্ণা ঠাকুর না সোমা ঠাকুর? বাংলার রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, সম্পর্কের মিষ্টতা পাশে সরিয়ে রেখে রাজনীতির এই তিক্ত লড়াই শেষ পর্যন্ত পৌঁছবে মতুয়া আবেগের দিকে। কারণ মতুয়া অধ্যুষিত বাগদার মানুষ কি ঘরের মেয়ে-কে বেছে নেবেন, নাকি ঘরের বৌ-য়ের ওপর আস্থা রাখবেন? উত্তর জানতে তাকিয়ে থাকতে হবে ৪ তারিখ পর্যন্ত।