নাগাল্যান্ডে ‘ল্যাভেন্ডার ইকোনমি’ গড়ার উদ্যোগ, কৃষকদের আয় বাড়াতে কেন্দ্রের সঙ্গে বড় পরিকল্পনা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
নাগাল্যান্ডে ‘ল্যাভেন্ডার ইকোনমি’ গড়ার উদ্যোগ, কৃষকদের আয় বাড়াতে কেন্দ্রের সঙ্গে বড় পরিকল্পনা
নাগাল্যান্ডে ‘ল্যাভেন্ডার ইকোনমি’ গড়ার উদ্যোগ, কৃষকদের আয় বাড়াতে কেন্দ্রের সঙ্গে বড় পরিকল্পনা

ডিমাপুর ঃ 

উত্তর-পূর্ব ভারতের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলতে ‘ল্যাভেন্ডার ইকোনমি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে নাগাল্যান্ড সরকার। কেন্দ্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের সহযোগিতায় রাজ্যে ল্যাভেন্ডার চাষ সম্প্রসারণ, গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি-উদ্যোক্তা তৈরির রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে হাজার হাজার কৃষক ও যুবকের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) ড. জিতেন্দ্র সিং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন নাগাল্যান্ডের পর্যটন ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রী টেমজেন ইমনা আলং এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা কুঝোলুজো নিয়েনু। বৈঠকে CSIR Aroma Mission-এর আওতায় ল্যাভেন্ডারভিত্তিক কৃষি, বিজ্ঞান গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

কী এই ‘ল্যাভেন্ডার ইকোনমি’?

 
'ল্যাভেন্ডার ইকোনমি' বলতে ল্যাভেন্ডার ফুল চাষ, তার থেকে এসেনশিয়াল অয়েল উৎপাদন, প্রসাধনী, সুগন্ধি, ওষুধ, অ্যারোমাথেরাপি এবং মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরির মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলাকে বোঝায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ল্যাভেন্ডার তেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, ফলে এটি কৃষকদের জন্য উচ্চ আয়ের ফসল হিসেবে বিবেচিত।


কেন নাগাল্যান্ডে ল্যাভেন্ডার চাষ?

 
২০২২ সালে নাগাল্যান্ডের জুনহেবোতো জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ল্যাভেন্ডার চাষ শুরু হয়। এই প্রকল্পটি জম্মু ও কাশ্মীরের ভদ্রওয়াহ অঞ্চলের ‘পার্পল রেভলিউশন’ থেকে অনুপ্রাণিত। সেই প্রকল্পের মাধ্যমে বহু কৃষকের আয় বেড়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, নাগাল্যান্ডের আবহাওয়া ও পাহাড়ি পরিবেশ সুগন্ধি ফসল চাষের জন্য উপযুক্ত। সঠিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কৃষকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।

কী কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে?

 
বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ওপর জোর দেওয়া হয়—

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ল্যাভেন্ডার চাষের উপযোগী এলাকা চিহ্নিত করতে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা।
কৃষকদের উন্নতমানের চারা, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।
জম্মু ও কাশ্মীরে সফল ল্যাভেন্ডার প্রকল্প পরিদর্শনে নাগাল্যান্ডের বিজ্ঞানী ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের পাঠানো।
বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপগুলিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা।
বায়োটেকনোলজি, কৃষি প্রযুক্তি, বায়ো-রিসোর্স এবং গ্রামীণ উদ্ভাবনে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগ বৃদ্ধি।
 

কৃষকদের কী লাভ হবে?

 
বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাভেন্ডার একটি উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক ফসল। অল্প জমিতে তুলনামূলক বেশি লাভ পাওয়া যায়। পাশাপাশি এসেনশিয়াল অয়েল, সুগন্ধি, প্রসাধনী এবং ওয়েলনেস শিল্পে এর চাহিদা থাকায় কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এতে গ্রামীণ যুবকদের জন্য নতুন স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও রয়েছে।

কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা

বৈঠকের শেষে দুই পক্ষই বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাকে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির সক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকে উৎসাহিত করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।