মাদকের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে সময়সীমা বেঁধে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্য ঘোষণা করে দেশজুড়ে পুলিশ বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধভাবে অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মাদক শুধু দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকেই বিপন্ন করছে না, বরং অর্থনীতির উপরেও চাপ তৈরি করছে এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত সংগঠনগুলির অর্থের জোগান দিচ্ছে।
বুধবার নয়াদিল্লির জাতীয় পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুলিশ স্মরণ দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, চলতি বছরের বাকি সময় এবং পরবর্তী তিন বছর মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও সম্মিলিত লড়াই চালাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মাদকমুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি পুলিশ বাহিনীকে পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, মাদক পাচার ও মাদকের অপব্যবহার দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব পড়ছে তরুণ প্রজন্মের উপর, তৈরি হচ্ছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। পাশাপাশি, মাদক ব্যবসা থেকে আসা অর্থ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত সংগঠনগুলির হাতে পৌঁছনোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না, জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অমিত শাহের বার্তা, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে লক্ষ্য পূরণ করতে হলে কেন্দ্রীয় সংস্থা, রাজ্য পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্তৃপক্ষকে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করাই এই অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
মাদকবিরোধী অভিযানের বার্তার পাশাপাশি পুলিশ স্মরণ দিবসের অনুষ্ঠানে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো পুলিশকর্মীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৩৬,৮৫২ জন পুলিশকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরেই কর্তব্যরত অবস্থায় ১৫৪ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
শহিদ পুলিশকর্মীদের পরিবারের ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন অমিত শাহ। একই সঙ্গে দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালের ২১ অক্টোবর লাদাখের হট স্প্রিংস এলাকায় চিনা বাহিনীর অতর্কিত হামলায় ১০ জন ভারতীয় পুলিশকর্মী প্রাণ হারান। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর ২১ অক্টোবর পুলিশ স্মরণ দিবস পালন করা হয়। পুলিশকর্মীদের আত্মত্যাগ এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয়াদিল্লির চাণক্যপুরীতে জাতীয় পুলিশ স্মৃতিসৌধ দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।
সব মিলিয়ে, ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ মাদকমুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কেন্দ্রের এই ঘোষণা মাদক পাচার ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।